ঈদের আনন্দকে পরিপূর্ণ করতে চাই মনের মতো নতুন পোশাক। তাই ঈদের পোশাক নিয়ে চিন্তা-ভাবনার শেষ নেই। ঈদের মতো উত্সবের পোশাকে থাকতে হবে নতুনত্ব, নজরকাড়া ডিজাইন। মেয়েদের ঈদ ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ সালোয়ার-কামিজ। রঙিন ও জমকালো সালোয়ার-কামিজে ঈদ রাঙাতে মনে মনে তৈরি সবাই। এই ঈদের সালোয়ার-কামিজের বৈচিত্র্যের নানা খবর নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
আসছে ঈদ-পোশাকগুলোতে দেখা যাচ্ছে রঙের বাহার। উত্সবের পোশাক হিসেবে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার থাকছে। এবার সাধারণ পোশাকেই ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে উত্সবের রং—লাল থেকে শুরু করে নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, কমলা, মেজেন্ডা সব ক’টা রঙেই। এক রঙা পোশাকের ফ্যাশন বদলে একই পোশাকে কয়েক রঙের ব্যবহার এখন বেশি জনপ্রিয়। তাই কখনো এক রঙা কামিজের বডিতে একই রঙের কয়েকটি শেডের কাজ করা হয়েছে। আবার কখনো দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের কাজ। কামিজের কাজের সঙ্গে রং মিলিয়ে করা হয়েছে সালোয়ার ও ওড়নার ডিজাইন। যারা গাঢ় রঙে স্বাচ্ছন্দ্য নন, ফ্যাশন ডিজাইনাররা ভেবেছেন তাদের কথাও। কাপড় হিসেবে সব সময়ের মতো এবারও রয়েছে সুতির জয়জয়কার। পাশাপাশি অ্যান্ডি কটন, তাঁত, হাফ সিলড়, সিলড়, মসলিনটাও চলছে বেশ। তবে রেগুলার ডিজাইনের পোশাকেই সবার আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রচ্ল গরমের কারণে আরামদায়ক কুর্তা ও ফতুয়ার ওপরও ঝুঁকছে তরুণীরা। জিন্সের সঙ্গে মানানসই এই পোশাকগুলো হতে পারে ঈদের বিকেলের জন্য আদর্শ। ঈদটা গরমের সময় হচ্ছে। এর মাঝে কোনোরকম সঙ্কেত ছাড়াই হানা দিতে পারে হঠাত্ বৃষ্টি। পোশাক ডিজাইনে তাই ঈদকে সামনে রেখে ভাবা হয়েছে ঋতু পরিবর্তনের কথাও। এ জন্যই এবারের ঈদের সালোয়ার-কামিজ তৈরি করা হয়েছে তাঁত, সিলড়, হাফসিলড়, অরগ্যান্ডি, মসলিন ও শিপন কাপড়ে। ঈদের আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সুতি কাপড়ও এখন অনেক জনপ্রিয়। এসব কামিজে থাকছে ব্লক, কারচুপি, এপ্লিক, ভরাট এপ্লিক ও এমব্রয়ডারির কাজ। ঈদ উপলক্ষে সালোয়ার-কামিজে জমকালো ভাব আনতে কামিজের কাজগুলো ভারি রাখা হচ্ছে। গলায় উজ্জ্বল রঙের সুতার কাজ থাকছে। কোনো কামিজের সম্পূর্ণ বডিতে আবার কোনোটির নিচের অংশে সুতার মোটা ও ভরাট ডিজাইন, পট্টি ও লেইস ব্যবহার করা হয়েছে। বাদ যাচ্ছে না পেছনের অংশও। কামিজের হাতায়ও থাকছে ভারি কাজ। সালোয়ার হচ্ছে কামিজের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। ওড়নায় থাকছে হালকা কাজ। এবারের ঈদের বিশেষ সালোয়ার-কামিজগুলো লম্বায় হচ্ছে হাঁটুর মাঝ বরাবর। একছাঁটের এই কামিজগুলো হচ্ছে লুজ ফিটিংয়ের। জনপ্রিয়তা বেশি থ্রি-কোয়ার্টার হাতার। তবে ডিজাইন ও পছন্দভেদে থাকছে ফুল ও স্লিভলেস হাতাও। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ক্রেতারা চাপা আকৃতির ও চুড়িদার সালোয়ার বেছে নিচ্ছেন বেশি। ফ্যাশনের পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিটি ফ্যাশন হাউসই কামিজের কাটিং প্যাটার্নে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। আর এই পরিবর্তনের ব্যাপকতা চোখে পড়ার মতো। কামিজের কাটিং, কলার, লে-আউট, ছাপা, ব্লক, বুটিক, বাটিক, লেস ও চুমকির ব্যবহার প্রায় সবকিছুতে ইদানীং বিভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। আজকের তরুণীরা ট্র্যাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি এই নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়েই তৈরি হচ্ছে এই পোশাকগুলো। আপনার ঈদকে জমকালো ফ্যাশনের রঙে রাঙাতে দাম থাকছে হাতের নাগালেই। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোয় ঈদের বিশেষ এই সালোয়ার-কামিজগুলোর দাম শুরু হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে। তবে একটু বেশি ডিজাইন আর ভারি কাজ থাকছে যেসব এক্সক্লুসিভ সালোয়ার কামিজে তার দাম রাখা হয়েছে চার থেকে বারো হাজার টাকার মধ্যে। ফ্যাশন হাউসগুলোর বাইরে অন্যান্য শপিংমলগুলোতেও এর কাছাকাছি মূল্যেই পাবেন এবারের ঈদের জন্য আকর্ষণীয় জমকালো সালোয়ার-কামিজ। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর ছোট-বড় সব শপিংমলেই রয়েছে নানা ডিজাইন ও রঙের সালোয়ার-কামিজের সমাহার। তাই যেকোনো মার্কেটে গেলেই পাবেন আপনার পছন্দের সালোয়ার-কামিজ। তবে আনস্টিচ সালোয়ার-কামিজ ও তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় মার্কেট ঢাকার গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, ইসলামপুর, বনানী বাজার ও মিরপুর। এখানে আপনার জন্য রয়েছে একই জায়গায় অনেক পোশাক। সব ধরনের কাপড় ও ডিজাইনের পোশাক মিলবে এই জায়গায়। যাদের আগ্রহ ও পছন্দ দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর পোশাক, তাঁরা ঘুরে আসতে পারেন অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট, রঙ বাংলাদেশ, স্টুডিও এমদাদ, সাদাকালো, অন্যমেলা, বাংলার মেলা, প্রবর্তনা, বিবিয়ানা, দেশালের শোরুমগুলোয়। তবে মনে রাখবেন, পোশাকের মাধ্যমে যেন আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে পুরোপুরি। পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ, ঈদের আমেজ আর চলতি ধারা—সব মিলিয়ে হতে হবে পোশাক নির্বাচন। ঈদ-পোশাকে বর্ণিল হোক আপনার ঈদ।
ডি জা ই না র ভা ব না
শাহনাজ খান
প্রধান নির্বাহী, কে ক্র্যাফট
হাল ফ্যাশনে সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাক হলো সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না, অর্থাত্ থ্রি-পিস। তাই ডিজাইনারদের চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা সালোয়ার-কামিজকে ঘিরেই বেশি থাকে। কে ক্রাফট ডিজাইনার গ্রুপ তাই নানা বৈচিত্র্যে সাজিয়েছে তাদের সালোয়ার-কামিজের আয়োজন। হারিয়ে যাওয়া শিল্প ও আগত ফ্যাশন দুয়ের মিশ্রণে করা হয়েছে কাজ। ক্লাসিক প্যাটার্ন যেমন রয়েছে, তেমনি ট্রেন্ডি ফ্যাশনে যায় এমন প্যাটার্নও রয়েছে। স্ট্রেইট কাট, হালকা ঘের, অধিক ঘের, শেরোয়ানি, কটি, আঙ্গারাক্ষা, কলিকাট, টুপার্ট, লেয়ারড ইত্যাদি প্যাটার্নের কালেকশন রয়েছে। মোটিফের অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে হাতের কাজ থেকে। হাতের কাজ এবং হাতের কাজের মোটিফকে প্রিন্টে রূপ দিয়ে। অথবা প্রিন্টের মাঝে মাঝে হালকা কাজ করে অরনামেন্টেশন করা হয়েছে। কামিজের স্লিভে, নিচে ও ব্যাকে কাজ করে নতুনত্ব আনা হয়েছে। এছাড়া কামিজের ফ্রন্টে ও নেক লাইন ধরে কাজ করা হয়েছে। কোনো কোনো কামিজে সোল্ডার ও আর্মহোলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়েছে। ফুলেল ট্রাইবাল, সেলটিক, গুজরাটি, ক্রস, নকশিকাথাঁ ও প্রকৃতি এমন নানা মোটিফের বিন্যাস রয়েছে কামিজ ও ওড়নাজুড়ে। ওড়না যেকোনো কামিজকে অন্য কামিজের চেয়ে বিশেষ করে তোলে, তাই ডিজাইনার গ্রুপ ওড়নাকেও বিশেষ যত্ন করে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নিজস্ব উইভিংয়ে করা ওড়নাতে কখনো প্রিন্ট কখনো এমব্রয়ডারি কখনো টাইডাই কখনোবা একাধিক মিডিয়া যুক্ত করে সাজানো হয়েছে উত্সবের আমেজে। নানা রেঞ্জের সালোয়ার-কামিজ রয়েছে এই আয়োজনে। সুতি, সিল্ক, লিনেন, জর্জেট, হাফ সিল্ক, ডবি, জ্যাকার্ট, আদ্দি ও মসলিন কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। অলংকরণ করা হয়েছে কারচুপি, এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ, প্রিন্ট ও টাসেল দিয়ে। রঙের ক্ষেত্রে, যেহেতু ঈদ তাই জাঁকজমকপূর্ণ এবং হালকা সব ধরনের রঙই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নীল, ফিরোজা, মেরুন, কালো, সোনালি, টারকিস, বার্গেন্ডি, কোরাল, লেমন, পিচ এইসব রং প্রাধান্য বেশি পেয়েছে। সালোয়ারের ক্ষেত্রে প্যান্ট প্যাটার্ন, চুরিদার, চোস, পাতিয়ালা সালোয়ার, পালাজ্জো তৈরি করা হয়েছে।
মডেল তানিয়া ও তিথি
পোশাক কে ক্র্যাফট
ছবি বিশ্বজিত্ সরকার
