n শাহাদাত্ হোসেন বাবু
আঙুলের ডগায় স্মার্টফোন, ইন্টারনেট আর স্যোশাল মিডিয়ার বৈচিত্র্যময় হাতছানি। তাই বহুরৈখিক ফ্যাশনের রঙিন উপস্থাপনায় তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক এখন ইউরোপ-আমেরিকার ফ্যাশনের দিকে। এ কারণে তারুণ্যের বেশ খানিকটা অংশ উত্সবেও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের ব্যবহার থেকে সরে যাচ্ছে। এখন দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতে তাই ট্র্যাডিশনাল ছাড়াও পাশ্চাত্য পোশাকের চাহিদা সারাবছর জুড়েই থাকে। ফ্যাশন জ্ঞানসমৃদ্ধ আধুনিক তরুণ-তরুণী তাই ঈদ-পোশাকে বেছে নিচ্ছে স্বাচ্ছন্দ্যময় ডিজাইন আউটফিট।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর কবিতায় বলেছেন, ‘তবু আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি, এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে, বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।’ আসলে কিশোর-কিশোরী থেকে তরুণ-তরুণীতে হয়ে ওঠার বাস্তবতা সব মানুষের জন্য অন্য রকম বটে। পৃথিবীতে ফ্যাশন সচেতনদের সবচেয়ে বড় অংশের নাম ইয়াং হার্ট প্রজন্ম। ওরা প্রতিনিয়ত খবর রাখে বিশ্ব-ফ্যাশনে কী চলছে, আর কী হবে তার আসন্ন ঋতুর পোশাক। রং, বৈচিত্র্যে তা হতে হবে ট্রেন্ডি। থাকতে হবে বিশ্বায়নের ছাপ। বয়স বেড়ে গেলে অধিকাংশ মানুষই কোনো না কোনো ক্লাসিক স্টাইলে বেঁধে ফেলে তার নিজস্ব ফ্যাশনকে। অপর পক্ষে তরুণ-তরুণীদের আনন্দ নতুন নতুন ডিজাইনে। নতুন রঙে নতুন ঋতুতে সচেতনতা বজায় রেখে সাজতেই যেন আগ্রহ বেশি তাদের। উদ্যমী তারুণ্যের পোশাকী ভাষা হোক সময়ের সঙ্গী, বিশ্বায়নের অংশীদার।
শহরে এখন ঈদের আমেজ। তাই ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতেও উত্সবের আমেজ। প্রতিদিনের ফ্যাশন এখন তারুণ্যের নিজস্বতা প্রকাশের ক্যানভাস। প্রতিদিনের ফ্যাশন বলতে বোঝানো হয় ক্লাস, আড্ডা, ঘোরাঘুরিতে যা আমরা সচরাচর করে থাকি। আর প্রতিদিনের ফ্যাশনে শহুরে মেট্রো লাইফে অভ্যস্তদের পছন্দ মোটেও জমকালো নকশার ডিজাইন নয়। সময়টা ফ্যাশন যেমন মেনে চলা, তেমনি পরতেও হওয়া চাই আরামদায়ক। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা ধনুকের মতো ঘুরতে চায় রঙিন দুনিয়ায়। উড়তে চায় পাখি হয়ে দেশ-বিদেশে। পোশাকের জমকালো ডিজাইন বহনে চলে না দৌড়ঝাঁপ, ছোটাছুটি। তাই হালকা নকশায় পছন্দের পোশাক বেছে নেন অধিকাংশই। তারুণ্যের পছন্দের পোশাকের বিবরণ দিতে গিয়ে আমার মনে হয়, চঞ্চলতা ফ্যাশন আউটফিটে ফুটে ওঠে। শহুরে ফ্যাশন ট্রেন্ড মূলত বৈচিত্র্য পায় পাশ্চাত্য পোশাকেই। দেশীয় প্যাটার্ন অনুসরণ করা হলেও ভিন্নতা থাকে উপস্থাপনা আর ফেব্রিকে। ঈদ পোশাকে এবার কাবলি কাটের পাঞ্জাবি ও লং কুর্তা থাকবে ফ্যাশনে ইন। স্লিম ফিট ও পকেট ছাড়া ছাপা নকশার শার্টও এখন তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়। প্রিন্টের কাবলি পোশাকও পছন্দের তালিকায় থাকবে শহুরে তরুণদের।’
উত্সবের বর্ণিলতাকে সঙ্গী করেই কাজের প্রয়োজনে বা আয়োজন বুঝে প্রতিদিন পোশাক নির্বাচন করতে হবে। তাই ফুলহাতা শার্ট, হাফহাতা শার্ট, পোলো টি-শার্ট, টি-শার্ট সবটাই পরার চল আছে। প্যান্টের ক্ষেত্রে টুইল বা পাতলা কাপড়ের খাটো প্যান্ট সবই এখন ট্রেন্ড। আবার কেউ কেউ সান্ধ্য আড্ডায় বেছে নিচ্ছেন সামার স্যুট আর প্রিন্ট বা চেক শার্ট। একেবারেই ইয়াং ক্রেজি ফ্যাশন হান্টারদের কাছে সিম্পল প্যাটার্নের চাহিদা বেশি। তরুণীরা এসময়টায় কেউ কেউ কর্ড স্লোডার, অফ স্লোডার বা গাউন কাটিং লং পোশাকও পছন্দ করেন।
গতানুগতিক গ্রাফিক্স আর্টের পাশাপাশি বর্ণিল রং, গ্রীষ্মের ফুল ও পাতা প্রিন্ট, গ্রাফিক আর্টস, অ্যাজটেক প্রিন্ট ও ফেব্রিকে গার্মেন্টস ওয়াশ এখন চলতি ফ্যাশনে ট্রেন্ড।
লেখক :চেয়ারম্যান, জেন্টল পার্ক
