পরপর ৫টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি তথা ১৮ দলের প্রার্থীর বিপুল ভোটে জয় লাভে চট্টগ্রামে বিএনপিসহ সমমনা দলসমূহের মধ্যে চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন সভা-সমাবেশসমূহে এর প্রতিফলন দেখা যায়। এসব সভায় নেতা-কর্মীরা ছিল উজ্জীবিত।
রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মঞ্জুর মোর্শেদ খান বলেছেন, বিরোধী দল হিসাবে এটি বিএনপির শেষ ইফতার অনুষ্ঠান। আগামী বছর আপনারা গণভবনে ইফতার করবেন। তিনি আরো বলেন, ঈদের পর বেগম খালেদা জিয়ার ডাকা বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে আন্দোলন করতে হবে। অবশ্য একইদিন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, তারা যদি জোরদার আন্দোলন করেন আমরাও জোরদারভাবে মোকাবিলা করব। আওয়ামী লীগকে দুর্বল ভাবলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে এবং তৃণমূল পর্যায়ে একাধিক বিভক্তি রয়েছে। নেতাকেন্দ্রিক এ বিভক্তি দীর্ঘকাল চলে আসছে। নেতৃত্ব পর্যায়ে বিভক্তির কারণে নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচনগুলোতে তাদের প্রার্থীর সাফল্যে আগামী দিনে বিএনপির সরকার গঠনের সম্ভাবনায় বর্তমানে তারা জনসমক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থা নিয়েছে। তাই নগর বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সভায় নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের দিকে খেয়াল রেখে সকলকে শুদ্ধ হতে হবে।
গত কয়েক বছর ধরে বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির কাউকে দেখা না গেলেও গত রবিবারের ইফতার পার্টিতে জাতীয় পার্টির নগর সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকেও আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কাউকে দেখা যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। পুরো রমজান মাসে তারা বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ প্রত্যেক ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিল করছে। নগর আওয়ামী লীগ থেকে জানানো হয়, রোজার মধ্যেই তারা ৪১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিল সম্পন্ন করবেন। নগর আওয়ামী লীগের মধ্যেও একাধিক গ্রুপিং রয়েছে। কাউন্সিল উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, যতই বিপর্যয় আসুক আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের মতে, রমজানের পর সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত বাড়ার আশংকা রয়েছে। কারণ বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তাদের শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারি দল তার অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনঢ় থাকলে চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী হানাহানি বাড়বে বৈ কমবে না। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হিসেবে চট্টগ্রামে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
