আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাড়ে চার বছরে মন্ত্রিসভা যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। পক্ষান্তরে বিগত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে একই সময়ে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৮১ শতাংশ। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে পেশ করা রিপোর্টে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ২০১৩ সালের এপ্রিল-জুন সময়ে ৮১টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৬টি সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার অধিক হওয়ায় মন্ত্রিসভা সন্তোষ প্রকাশ করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গত ৩০ জুন পর্যন্ত মন্ত্রিসভার প্রায় ২০৮টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সকল সভায় ১ হাজার ৩৬১টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরমধ্যে ইতিমধ্যেই ১ হাজার ২৭২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া সমপ্রতি নেয়া ৮৯টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যার হার ৬ দশমিক ৬৫ ভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরে মন্ত্রিসভা ১১৩টি চুক্তি ও এমওইউ এবং ২২৮টি আইনের পাশাপাশি ৪০টি নীতি ও কৌশল অনুমোদন করেছে। বিগত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সাড়ে চার বছর সময়ে ১৮৯টি মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সকল বৈঠকে ৬৭৪টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরমধ্যে ৫৪৬টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়ন হার ৮১ শতাংশ। তিনি বলেন, এ সময়ে ৫৮টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক ও ১৫২টি আইনের পাশাপাশি প্রায় ২২টি নীতি ও কৌশলও অনুমোদন করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বর্তমান সংসদের অধিবেশনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরো কিছু বিল উত্থাপনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
এদিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করতে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’র খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনের অধীনে তালিকাভুক্তির পর প্রতিবন্ধীদেরকে পরিচয়পত্র দেয়া হবে। এই আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীরা যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, তার ব্যবস্থা রয়েছে। বৈষম্যের শিকার হলে তারা ক্ষতিপূরণ পাবে। তিনি বলেন, এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে বৈষম্য দূর করতে বলা হবে। কিন্তু বৈষম্য দূর না করলে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ না দিলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈষম্য দূর না করলে এবং ক্ষতিপূরণ না দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। তিনি বলেন, এই আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে প্রধান করে একটি সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সচিবের নেতৃত্বে একটি নির্বাহী কমিটি গঠিত হবে। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটিও থাকবে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা ‘ভৌগোলিক নির্দেশক আইন-২০১৩’র খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের প্রচলিত পণ্যের সুনাম রক্ষায় এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে রয়েছে মুক্তাগাছার মণ্ডা, পোড়াবাড়ির চমচম, পদ্মার ইলিশ ও উত্তরবঙ্গের চিনিগুড়া চাল। তিনি বলেন, আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
মন্ত্রিসভায় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার (সংশোধনী) আইন-২০১৩’র খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদ্যমান আইন ২০১০ সালে প্রণীত হয়েছে। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংস্থাকে উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে রাখা হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রচলিত আইনে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন, বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানগণ অন্তর্ভুক্ত হবেন।
এছাড়া ২৮ মে থেকে ১ জুন আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত আন্তঃ সংস্কৃতি সংলাপ সম্পর্কিত ২য় বিশ্ব ফোরামে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির ৪ ও ৫ মে সৌদি আরব সফর এবং রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এনার্জি ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণের বিষয়েও মন্ত্রিসভায় অবহিত করা হয়।
