শাহবাগে আবার গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৭
গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় না দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ। ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে ফাঁসির রায়ের দাবিতে গতকাল সোমবার দিনভর অবরোধশেষে শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি থেকে শ্লোগানে শ্লোগানে ফাঁসির দাবি জানায় তরুণ প্রজন্ম। রায়ের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা আহূত হরতালে গণজাগরণ মঞ্চ সমর্থন দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকালে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীনতাবিরোধী পরিকল্পনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন গোলাম আযম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগও প্রমাণিত। অথচ ট্রাইব্যুনাল তাকে ফাঁসি না দিয়ে ৯০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে। এ রায়ে জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই আমরা রায় প্রত্যাখ্যান করছি। গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে আমরা শাহবাগে টানা অবস্থান করবো। তবে রমজান মাস উপলক্ষে এবং সেহরির কারণে রাত সাড়ে দশটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার রাতে এ ঘোষণা দেন। গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শাহবাগ অবরোধ শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একই দাবিতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করে আন্দোলনরতরা। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে দুপুর পৌনে ২টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থানরত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। বাকি দিন ও রাতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে আন্দোলনরতরা। বিক্ষোভরত তরুণরা সড়কে গাড়ির গতিরোধক স্ট্যান্ড দিয়ে শাহবাগের চারদিকের সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়। অবরোধের কারণে শাহবাগ টিএসসি-কাঁটাবন-রূপসী বাংলা-মত্স্য ভবন সন্নিহিত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। গোলাম আযমসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলনকারীরা শ্লোগান দেন। দুপুরে জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে মঞ্চ। মিছিলটি হাইকোর্ট, পল্টন ঘুরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শাহবাগে ফিরে টানা অবস্থানের ঘোষণা দেয়। বিকাল ৩-৪০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় জাদুঘরের মধ্যবর্তী সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার হয় আরেকটি ককটেল। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। এর আগে শাহবাগে অবস্থানের শুরুতে একটি বাস ভাংচুরের চেষ্টা চালায় এবং এক সহকারী পুলিশ কমিশনার স্নিগ্ধা আকতারকে লাঞ্ছিত করে আন্দোলনরতরা। এদিকে গতকাল রাত এগারোটার খানিক আগে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুষ্কৃতকারীরা।