গোলাম আযমের প্রধান কৌঁসুলি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ রায় ন্যায়ভ্রষ্ট এবং আবেগতাড়িত। রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তিনি বলেন, ফৌজদারি মামলার ইতিহাসে এমন আরেকটি রায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কারণ রাষ্ট্রপক্ষ গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত ৬১টি অভিযোগের একটিও প্রমাণ করতে পারেনি। গতকাল সোমবার রায়ের পর ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে ব্যারিস্টার রাজ্জাক এ প্রতিক্রিয়া জানান। এ সময় অপর কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের কোন উপাদান নেই। আইনের দৃষ্টিতে এ রায় কোন রায়ই নয়। এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে, অধ্যাপক গোলাম আযম রাজনৈতিকভাবে অখণ্ড পাকিস্তানে বিশ্বাসী ছিলেন। পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য তিনি কাজ করেছেন। কিন্তু পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করা আর গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার।
তিনি বলেন, প্রথম অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ ৬টি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে অধ্যাপক গোলাম আযম পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, সামরিক শাসক টিক্কা খান এবং মাওলানা মওদুদীর সাথে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তার কোন কার্য বিবরণী প্রকাশ করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কারো সাথে দেখা-সাক্ষাত্ করা মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়। তারপরও ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন এবং ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন। আইনের দৃষ্টিতে এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া ২ নং অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে গোলাম আযম কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শান্তি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন। শুধুমাত্র শান্তি কমিটি গঠনের সাথে জড়িত থাকা মানবতা বিরোধী অপরাধ হতে পারে না। তারপরও ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ৩ ও ৪ নং অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ অধ্যাপক আযমের ৫০টি বক্তৃতা-বিবৃতির উপরে ভিত্তি করে অভিযোগ এনেছেন। শুধু পত্রিকার খবর ছাড়া অন্যকোন সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
৫ নং অভিযোগ সিরু নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা। এ পর্যায়ে প্রসিকিউশনের কাহিনী হচ্ছে অধ্যাপক গোলাম আযমের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে হত্যা করে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সেই চিঠি উপস্থাপন করতে পারেননি।
