আমার কথা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩৫
খুব ছোটবেলায় মা-বাবা আমাকে রবীন্দ্রনাথের ‘বীরপুরুষ’ কবিতাটি শুনিয়েছিলেন এক রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর রাতে। মনে খুব দাগ কেটেছিল। বাবা ষাটের দশকের প্রথমভাগ থেকেই রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানগুলোয় নিয়ে যেতেন এবং তিনিই প্রথম ‘খেলাঘর’ পত্রিকার কপি রেলওয়ে বুকস্টল থেকে কিনে দিয়েছিলেন। সেই থেকে ‘খেলাঘর’, ‘মুকুল’ ও ‘টাপুরটুপুর’ পড়তে শুরু করি। ‘টাপুরটুপুর’-এর বেশিরভাগ সংখ্যা আমার বড় মামা সংগ্রহ করতেন। রবীন্দ্রনাথের ‘বীরপুরুষ’, নজরুলের ‘লিচুচোর’ আর ‘টাপুরটুপুর’-এ প্রকাশিত আফলাতুনের ‘শিকারী’ গল্পটি আমাকে প্রায় একই সময়ে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। প্রথম লেখাটি ছাপা হয়েছিল সত্তর দশকের শুরুর ভাগে। কচি হাতের খুবই অপরিপক্ব লেখা ছিল বলে লেখায় কাটছাঁট হয়েছিল। ছাপা অক্ষরে নিজের নাম দেখে বিশ্বাসই হয়নি যে, আমার লেখা ছাপার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। পত্রিকা বাসায়ই আসত। লুকিয়ে লুকিয়ে বহুবার পড়ে আনন্দে আত্মহারা হলেও কাউকে জানানোর সাহস পাইনি। ছেলেবেলায় বড় হয়ে কবি এবং অভিনেতা হওয়ার শখ জেগেছিল। চুপি চুপি বহু কবিতা লিখেছি, ছড়াও লিখেছি। সত্তরের দশকে পত্রিকায়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিকী এবং দেয়াল পত্রিকায় তা ছাপাও হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর গদ্যের প্রতি পুরোদস্তুর ঝুঁকে যাই। অভিনয় খুব কম করেছি, তবে একটু বড় হওয়ার পর বিজ্ঞানী হওয়ার শখ জেগেছিল, একই সাথে সমাজ বদলের ইচ্ছাও প্রবল হয়েছিল। সবকিছুর পেছনে লেখক হওয়ার বাসনা প্রবল হয়ে জেগে উঠছিল। প্রচুর পড়াশোনা করতাম। পাঠ্যবইয়ের চেয়ে অনেক বেশি পড়েছি বিশ্বসাহিত্য, পুরান ও রাজনীতি বিষয়ক বই। ইতিহাসও খুব টানত। মনে হয় লেখক হওয়ার সুপ্ত স্বপ্ন আমায় এখানে এনেছে। আমার নিজের লেখা সবচেয়ে প্রিয় গল্পটি হলো ‘মা’। আমার প্রিয় লেখক রবীন্দ্রনাথ, বিভূতিভূষণ, ফিওদর দস্তয়েভস্কি, তলস্তয় ও পার্ল এস বাক। পার্ল এস বাকের ‘গুড আর্থ’ আমার খুব পছন্দের বই। বিভূতিভূষণের ‘চাঁদের পাহাড়’ আমি বহুবার পড়েছি। আবারও পড়ব। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সম্মুখ যুদ্ধের সময় স্রেফ বরাতজোরে বেঁচে যাওয়ার ঘটনাটার কথা কখনও ভুলব না। এই ঘটনা নিয়ে ‘নতুন দিন’ নামের গল্প লিখেছিলাম, যা একটি জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়েছিল। আমার জন্ম ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ আগস্ট। বাবার কর্মস্থল বদলের কারণে পড়ালেখা করেছি অনেক স্কুল-কলেজে। শেষে পড়েছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশ-বিদেশের বাংলা ভাষার বহু পত্রিকা-সাময়িকীতে লিখেছি। এগুলোর বেশিরভাগের প্রকাশস্থল ঢাকা ও কলকাতা। প্রকাশিত বই শতাধিক, যার অর্ধেকের বেশি শিশুতোষ গ্রন্থ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে প্রথম বাংলাদেশ কোষ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), চলচ্চিত্র, সিনেমা থেকে চিত্রালী, হারানো দিনের পত্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশের সভ্যতা ও প্রত্নকীর্তি, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র, প্রাচীন বাংলার প্রত্নকীর্তি, যেমন করে মানুষ এলো, এক গোয়েন্দা চার রহস্য, কাঠমাণ্ডুতে গোয়েন্দাগিরি, দুঃসাহসী মুক্তিসেনা, গহীন বনের আতঙ্ক, রহস্য জালে দুই গোয়েন্দা, ভাষা ও বর্ণমালার ইতিহাস প্রভৃতি। পুরস্কারের মধ্যে আছে অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ সাহিত্য সংঘ সম্মাননা, স্বভাবকবি গোবিন্দচন্দ্র দাস সম্মাননা ও গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার।