ভেজাল ওষুধকে না বলুন

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:১৫

স্বাস্থ্য ও সুচিকিত্সা নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমাদের একটা জীবনই পেরিয়ে যায় দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগের টানাপড়েনে। অসুখ থেকে রক্ষা পেতে এক্ষেত্রে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে আমরা ওষুধ গ্রহণ করি। কিন্তু ভেজাল, নিম্নমানের, মেয়াদোর্ত্তীর্ণ ওষুধে আমরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ি। সচেতনতা আর অক্ষরজ্ঞানের অভাবে বেশিরভাগ সময় এরকম দুর্ভোগের শিকার হন গাঁয়ের মানুষজন। এখনকার সময়ে শহরপ্রধান জায়গাগুলোতেও চলছে রমরমে ভেজাল ওষধের কারবার। কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিতে আমার গাঁ খেলারআলগীর নিকটস্থ বটতলা বাজারের এক ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়ে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হয়ে ওঠে। মানুষজন বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ কিনছে, কেউ অল্প দিনে সুস্থ হয়ে উঠছে বা কারো দীর্ঘদিন ধরেও দামি দামি ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। সাধারণত প্রত্যন্ত অঞ্চল, বস্তি, শ্রমজীবী ও গার্মেন্টস এলাকায় নিম্নমানের ওষুধ বেশি বিক্রি হয়। ওষুধ সম্পর্কে এ জনগোষ্ঠীর ন্যূনতম ধারণাটুকুও নেই।  সচেতনতার অভাব ও বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি করতে পারার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফার্মেসির মালিক, কমিশনখোর ডাক্তার আর বিক্রয় প্রতিনিধিরা লাভবান হচ্ছে। প্রবাদে ডাক্তারকে দ্বিতীয় প্রাণদাতা বলা হলেও বেশকিছু অসত্ ডাক্তার মুনাফা অর্জনের জন্য এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করছে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের সুনাম ও রপ্তানির সাফল্য এলেও দেশজুড়ে ভেজাল ওষুধের কাটতি দেশের চিকিত্সাকেন্দ্র ও নিকটস্থ ফার্মেসিগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।

অবাক হওয়ার মতো কয়েকটা সত্য হচ্ছে এইরকম :

১. কেবল রোগী নয়, অনেক সময় চিকিত্সকরাও ভেজাল ওষুধ নির্ণয় করতে পারেন না।

২. একই রোগের চিকিত্সায় চিকিত্সক প্রেসক্রিপশনে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষজনকে এক কোম্পানির ওষুধ লিখে দেন  আর অশিক্ষিত মানুষজনকে অন্য কোম্পানির ওষুধ কিনতে পরামর্শ দেন।

৩. অনেক চিকিত্সক ওষুধ কোম্পানি এবং ফার্মেসির মালিকের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক মাসিক একটা বকশিশ গ্রহণ করেন এবং সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্ন ছুড়লে স্বজনপ্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন—অর্থ লেনদেনের ব্যাপারটা হচ্ছে কোম্পানির মালিক ও চিকিত্সকের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ, এর সঙ্গে তাঁদের কর্মজীবনের কোনো সম্পর্ক নেই।

৪. অধিকাংশ এলাকায় চাঁদার বিনিময়ে ভেজাল ওষুধের মালিক, কমিশনখোর ডাক্তার, ফার্মেসি আর বিক্রয় প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা পেয়ে থাকে।

এছাড়াও বর্তমান সময়ে বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি ছোট কোম্পানিগুলোও এক অভিনব পদ্ধতিতে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করছে। উন্নত দেশগুলোতে ওষুধ এবং ওষুধশিল্পের ওপর সরকারের কঠোর আইন ও নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের সার্বিক সহায়তা থাকায় ভেজাল ওষুধ কার্যক্রম বন্ধ হলেও অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার ও নীতিনির্ধারকদের দুর্নীতির কারণে এবং জনগণের সহযোগিতা মনোভাবের অভাবে নকল, ভেজাল, নিম্নমানের মেয়াদোর্ত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও নতুন প্রজন্মের সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন ও একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অপচিকিত্সা, ওষুধে ভেজাল ও খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত রসায়নিক মিশ্রণ কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়