বগুড়ায় রেললাইনে ৮শ’ ক্লিপ খুলে নাশকতার চেষ্টা!

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৫
বগুড়ায় রেল লাইনে ভয়ঙ্কর নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শহরদিঘী এলাকায় প্রায় ২শ’ মিটার রেললাইন থেকে স্প্যান্ডেল ক্লিপ খুলে ফেলে। তবে বিষয়টি দ্রুত ধরা পড়ায় শেষ পর্যন্ত কোন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেনি। খুলে ফেলা ক্লিপ মঙ্গলবার লাগানো হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত মেরামত কাজের কারণে ৪ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ ধারণা করছে শিবির কর্মীরা নাশকতা ঘটাতে ট্রেন লাইন থেকে এই ক্লিপ খুলে ফেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেল স্লিপারের সঙ্গে লাইন সংযুক্ত রাখতে ব্যবহার হয় স্প্যান্ডেল ক্লিপ বা ইআরসি। এটি না থাকলে ট্রেন লাইন থেকে বিচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। দুর্বৃত্তরা সোমবার দিবাগত গভীর রাতে প্রায় ৮শ’টি স্প্যান্ডেল ক্লিপ খুলে ফেলে। বগুড়া রেলওয়ের (পথ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে শহরদিঘী এলাকায় লাইন পাহারায় নিয়োজিত রেলকর্মী (ওয়েম্যান) বকুল ও আজমলের চোখে বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। শত শত ক্লিপ খোলা দেখে তারা তাত্ক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। এর পর রেল ও পুলিশ র্কমকর্তরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। রাত দেড়টার দিকে রেল কর্মীরা মেরামত কাজ শুরু করেন। রেল লাইন থেকে ৭শ’৭৫টি’ ক্লিপ খুলে ফেলা হয়েছিল। রেলের উপ সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন আরও জানান, রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত কিছু ক্লিপ লাগিয়ে রেল লাইন ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়। সকালে বাদবাকী ক্লিপ আবার লাগানো হয়। দুর্বৃত্তরা স্লি¬পার থেকে শুধু ক্লিপ খুলেই ফেলেনি, তারা সেগুলো দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। এছাড়াও বেশ কিছু সংখ্যক ক্লিপ তারা নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অনেক ক্লিপ খুঁজে পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ (পথ) বগুড়া’র পক্ষ থেকে জানান হয়, খুলে ফেলা স্প্যান্ডেল ক্লিপের মধ্যে ২৩২টি পাওয়া গেলেও অন্য গুলো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন ক্লিপ নিয়ে এসে লাগানো হয়েছে। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্লিপ খুলে ফেলার বিষয়টি ধরা না পড়লে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে ক্লিপ খুলে রাখা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতাল চলার সময় একই কায়দায় প্রায় ১ হাজার স্প্যান্ডেল ক্লিপ রেল লাইন থেকে শিবির ক্যাডাররা তুলে ফেলেছিল। সে সময়ও অল্পের জন্য ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রেলের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।