মামলার কারণে চলতি বছর এখানকার তিনটি লঞ্চঘাটের ইজারা দেয়নি নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ। পূর্বের ইজারাদাররা ইজারা ছাড়াই বৃহত্ তিনটি লঞ্চঘাট থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নিচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ ২০১২ সালের জুন মাসে বরিশাল একতলা লঞ্চঘাট, দোতলা লঞ্চঘাট ও সিএমভি কার্গো ঘাট ইজারা দেয়। একতলা লঞ্চঘাটের ইজারা পায় বহুল আলোচিত বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মীর্জা আবুয়াল হোসেন অরুণ, দোতলা ঘাটের ইজারা পান বাবুল ও চাঁদমারী কার্গো ঘাটের ইজারা পান তত্কালীন আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহ কবির। একতলা ঘাটের ইজারা দেয়া হয় ৪৭ লাখ টাকা। দোতলা লঞ্চ ঘাটের ইজারা ৪৪ লাখ টাকা ও কার্গো ঘাটের ইজারা ২৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে ইজারার মেয়াদ। ঐ মাসেই নতুন করে ঘাট তিনটি ইজারা দেয়ার কথা। কিন্তু ইজারা দেয়ার পূর্বেই ইজারাদাররা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দাবি করে মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলা বর্তমানে চলমান থাকার কারণ দেখিয়ে আর নতুন করে ঘাট ইজারা দেয়নি বিআইডব্লিউটিএ। তবে মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। তবে কারো কারো মতে লোকসান হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। বরং গত অর্থবছরে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রভাব বিস্তার করে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা কমে ইজারা নিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করে জানান, তখন অনেক আগ্রহী ইজারাদারকে দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। আগ্রহীরা সকলে অংশগ্রহণ করতে পারলে আরো ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হতো বলে বঞ্চিত ইজারাদারদের দাবি। বর্তমানে সেই লোকসানী হারেই দৈনিক ভিত্তিতে ইজারাদারের কাছ থেকে টাকার অংশ বুঝে নিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহত্ এ তিনটি ঘাটের পূর্বের ইজারাদারদেরই বহাল থাকার কারণে চলতি বছর আরো ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার। পূর্বের ইজারাদারের কাছ থেকে উদ্ধার করে আগামী বছর জুন মাসের আগে নতুন ইজারাদার নিয়োগ করার সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নৌবন্দর কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই ঠিকাদাররা মামলা করেছে। ইজারাদারদের ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে সুফল পাওয়া যায় না।
এখানকার নৌ-বন্দরের উপ-পরিচালক সহিদউল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ইজারাদার অতিরিক্ত টাকা নিয়মের বাইরে রাখতে পারেন না। যদি কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয় তাহলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতো। অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন। মামলা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে। মামলা শেষ হলে নতুন করে ইজারা দেয়া হবে ঘাট। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার জানান, মামলার বিষয়টি পরিচালক (আইন) দেখছেন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে ইজারা দেয়া সম্ভব হবে না। তবে এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, খুব শিগগিরই মামলা যাতে নিষ্পত্তি হয় তার চেষ্টা চলছে।
