গল্প নয় সত্যি

হাতাহাতির জের!

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২০:০০
রাস্তার মাঝে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদেরকে নিয়ম মানতে বাধ্য করাই ছিল তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তা না করে তারা নিজেরাই যখন মামুলি কিছু বিষয় নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তখন শাস্তিটা হয়তো তাদের প্রাপ্যই ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত এটা যে চাকরি হারানোর মতো এত বড় শাস্তি হবে সেটা বোধকরি রাস্তার মাঝে হাতাহাতির সময়ও মাথায় আসেনি চীনের দুই মহিলা ট্রাফিক পুলিশের। তবে ব্যস্ত রাস্তায় চলাচল করা অসংখ্য মানুষের সামনে আর সিসি টিভির ফুটেজের কারণে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া দুই মহিলা ট্রাফিকের হাতাহাতি যে আলোচনা তৈরি করেছিল সেই আলোচনা থেকে নিজেদের দায় এড়াতে সর্বোচ্চ শাস্তির পথে হাঁটাটাকেই নিরাপদ বলে মনে করেছে চীনের হেইবেই প্রদেশের ট্যাংশান শহরের ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি ট্যাংশানের একটি ব্যস্ত রাস্তায় পথচারী পারাপারের ক্রসিংয়ের উপর দাঁড়িয়ে হঠাত্ করেই তর্ক জুড়ে দেন দায়িত্ব পালনরত ওই দুই মহিলা ট্রাফিক কনস্টেবল। আর এই তর্ক থেকেই এক পর্যায়ে একে অন্যের চুল ধরে টানতে শুরু করেন এবং এলোপাথারি ঘুষি ছুড়তে থাকেন। এ সময় বিপজ্জনকভাবে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে মারামারি করতে থাকা দুই মহিলা ট্রাফিককে সাবধান করার জন্য বহু গাড়িই জোরে জোরে হর্ন বাজিয়ে তাদের পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। এমনকি অভাবনীয় এই দৃশ্য দেখে কাছের ট্রাফিক চৌকি থেকে ছুটে আসেন ওই দুই কনস্টেবলের বড়কর্তাও। তবে ঊর্ধ্বতন আরেক মহিলা কর্মকর্তার এই চেষ্টা সত্ত্বেও হাতাহাতি করতে থাকা এই দুই মহিলাকে ক্রমাগত একে অন্যের মুখে ও মাথায় আঘাত করতে দেখা যায়। এদিকে এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংহাই ডেইলি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, কর্মরত অবস্থায় বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন এবং নিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই দুই ট্রাফিক কনস্টেবলকেই তাত্ক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদিকে দু’জন কর্মজীবী নারীর জীবনে এটি খুব বাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলেও তাদের হাতাহাতির দৃশ্য রীতিমতো ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। এমনকি এ নিয়ে চীনের বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে মজাদার নানা আলোচনাও চলছে।