অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লক্ষাধিক টাকার ওষুধ গায়েব

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২২:০৩
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে লক্ষাধিক টাকার ওষুধ গায়েব হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা তদন্তে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি কয়েক দিন আগে যশোর সিভিল সার্জনের নিকট তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে কোন কর্মকর্তাই মুখ খুলছেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার আহসান হাবিব কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে হাসপাতালের স্টোর থেকে লক্ষাধিক টাকার ওষুধ গায়েব করে দিয়েছেন। গত ৩০ জুন যশোর সিভিল সার্জন ডা. আতিকুর রহমান খান অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরির্দশনে আসেন। তিনি এ সময় স্টোর পরিদর্শন কালে বেশ কিছু ওষুধ ও মালপত্রের হিসাবে গড়মিল দেখতে পান। গায়ের হওয়া ওষুধের মধ্যে ৫ শতাধিক সেফিক্সিম ট্যাবলেট ও ৫ শতাধিক সেফরক্সিম ট্যাবলেট রয়েছে; যার প্রতিটির মূল্য ৫০ টাকা। এছাড়া কয়েক হাজার টাকা মূল্যের রেক্সিনসহ বেশ কিছু ওষুধও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সিভিল সার্জন আতিকুর রহমান খান অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক আব্দুল কাদেরকে আহবায়ক ও চিকিত্সক আব্দুল গফফার, মাহামুদুর রহমান রিজভী, আলাউদ্দিনকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তাদেশ জারি করেন। তিনি তদন্তাদেশ পত্রে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরে ওষুধসহ বিভিন্ন মালপত্রের হিসাবে গড়মিল প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তদন্ত কমিটি ৪/৫ দিন আগে তদন্ত রিপোর্ট যশোর সিভিল সার্জন বরাবর পেশ করলেও এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে সিভিল সার্জন বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। স্টোর কিপার আহসান হাবিবের ব্যবহূত ০১৭২২-০৩০৭২২ নম্বর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন স্যারসহ উপরের স্যারেরা কথা বলতে বারণ করেছেন। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক আব্দুল কাদেরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ ব্যাপারে সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলতে বলেন। সিভিল সার্জন আতিকুর রহমান খান বলেন, কিছু সমস্যা আছে। ২/১টি মাল এদিক-ওদিক হয়েছে। কি আর করা। সব জায়গায় এ রকম সমস্যা আছে। একজনকে সরিয়ে আর একজনকে নিয়ে আসলে সেও একই কাজ করবে। কারো চাকরির ক্ষতি করে কি লাভ? সতর্ক করে দিয়েছি। যতটুকু ঠিক হয়।