জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি বিশিষ্টজনের

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২২:০৫
সন্ত্রাস বিরোধী অথবা অন্য কোন আইনে এখনই জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে এ সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তারা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী বলেন, ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে জামায়াতে ইসলামকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। একাত্তরের ঘটনার মধ্যদিয়েই জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শেষ হয়নি। ৪২ বছর ধরেই এ সংগঠনটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারা তাদের দণ্ডিত নেতাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। ট্রাইব্যুনালের ৪টি রায়ের ভিত্তিতে জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় ব্যবস্থা নেয়া উচিত উলে¬খ করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ না করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না। সন্ত্রাস বিরোধী আইন অথবা অন্যকোন আইনে তাদের বিচার করে নিষিদ্ধ করা যায়। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের রাযের বিরুদ্ধে আপিল করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, রায়টি প্রত্যাশিত হয়নি কিন্তু আইনগতভাবে তা মেনে নিতে হবে। বিভিন্ন মহল থেকে এ রায়ের ব্যাপারে ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করায় তা আপিলের ক্ষেত্রে বড় বাধা নয় উল্লে¬খ করে তিনি আরো বলেন, জনগণ যদি চায় সরকার তা করতে পারে। শহীদ সিরাজুদ্দিন হোসেনের ছেলে সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর মুজাহিদের ফাঁসির রায়ে স্বস্তি পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিদের শুধু নয় সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামের বিচারও করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের ফিরে পাব না- তবে একাত্তরের এই ঘৃণ্য অপরাধীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে স্বস্তি পেয়েছি। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেয়া রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আল¬াহর রহমতে এরকম একটা রায় পেয়েছি। একাত্তর সালে বাংলাদেশের সব স্থানে সন্ত্রাস ছিল । এ সন্ত্রাস যারা কায়েম করেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল মুজাহিদ। এদেশের বুদ্ধিজীবী, হিন্দু সম্প্রদায়, স্বাধীনতা ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য মুজাহিদ কাজ করেছিল। অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, ফাঁসির জন্য নয় এ রায়ের মধ্যদিয়ে দায় মুক্তি ঘটেছে। যারা মুজাহিদকে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।