এ রায়ে দাম্ভিকতার পতন হয়েছে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১০
বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাসহ ৫টি অভিযোগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সন্তানরা। তারা বলেছেন, ৪২ বছর আগে যে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো সেই অপরাধের বিচারে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। অপরাধীরা এতদিন চিত্কার করে বলেছিল যুদ্ধাপরাধ হয়নি। কিন্তু এ বিচারের মাধ্যমে তাদের সেই দাম্ভিকতার পতন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বলেন, ফাঁসির আদেশে আমরা সন্তুষ্ট। তবে বয়স বিবেচনায় গোলাম আযমের ফাঁসি না দেয়ায় আমাদের ক্ষোভ রয়েছে। এখন আর বিলম্ব নয়, দ্রুত অপরাধীদের রায় কার্যকর করা হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আমরা যারা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বুদ্ধিজীবী হত্যায় আজকে মুজাহিদকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছি। এ রায়ে প্রমাণ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো যুদ্ধাপরাধে যুক্ত ছিল। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আলবদর বাহিনীর প্রধান, বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়েছি। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য যাদের পিতা-মাতা আজ জীবিত নেই তাদের সন্তানদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তোমাদের পিতা-মাতা ও ভাই-বোনকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছিলো সেই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এটাই আমাদের জন্য সন্তুষ্টির। এ রায়ে তোমাদের ক্ষোভ ও বেদনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। বিটিভির মহাপরিচালক ম হামিদ বলেন, এ রায়ে যেকোনো দেশপ্রেমিক ব্যক্তি আনন্দিত হবেন। আমিও আনন্দিত। এতোদিন ধরে যে চাপা ক্ষোভ ও বেদনা বুকের ভেতরে জমে ছিল তা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতি দীর্ঘদিন ধরে যে কলংকের মধ্যে ছিলো সেখান থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছে। এখন রায়গুলো কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোরশেদ খান বলেন, মুজাহিদের ফাঁসির রায়ে সকল শহীদের আত্মা শান্তি পেয়েছে। যেসব মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন তারাও সন্তুষ্ট হয়েছেন। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন মুজাহিদ কি নৃশংসভাবে নিজের হাতে বাঙালিদের হত্যা করেছে। অভিনেত্রী শিমুল ইউসুফ বলেন, শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে এই রায়কে ভালোভাবেই নেব আমরা। বুদ্ধিজীবী হত্যা ও পরিকল্পনাসহ কয়েকটি অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। শহীদ বুদ্ধিজীবী প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ বলেন, পুরো বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল গোলাম আযমের ফাঁসি হবে। কিন্তু ফাঁসি হয়নি। আমরা ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু আজকের রায়ে আমাদের মনে কিছুটা আশার প্রলেপ লেগেছে। পুরো জাতি একসাথে থাকলে এ রায় বাস্তবায়নে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা বলেন, গোলাম আযমের রায়ের পর হূদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। আজ কিছুটা শান্তি লাগছে। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেয়ার জন্য বিএনপিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন তিনি। জামায়াত নেতা মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এ মামলার অন্যতম সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা জহিরউদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল। তিনি বলেন, এ রায়ে অত্যন্ত অভিভূত ও আনন্দিত। তবে সন্তুষ্ট হলেও আমরা খুশি হবো তখনই যখন এ রায় বাস্তবায়ন হবে। প্রত্যেক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। মুজাহিদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে আমাদেরকে প্রতিটি পদে পদে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এরপরেও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে ফাঁসি দিয়েছে এতে দেশবাসী খুশি হয়েছে। অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই রায়ের প্রত্যাশায় ছিলাম। রায়ে ৩০ লাখ শহীদের ঋণ শোধ হলো।