দ্রুত বাস্তবায়ন ও জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল দাবি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১১
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দেয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ক্ষমতাসীন এ জোটের নেতৃবৃন্দ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় দেশবাসী আজ আনন্দিত। দ্রুত রায় বাস্তবায়ন এবং আদালতের রায়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, দেশবাসীর সঙ্গে আওয়ামী লীগও সন্তোষ প্রকাশ করছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধীর রায় কর্যকর শুরু করা হবে। এ জন্য দেশবাসীর সহায়তা প্রয়োজন। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে হানিফ বলেন, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন; আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তারা ইসলামী নাম ব্যবহার করে ইসলামবিরোধী কাজ করছে। তারা সন্ত্রাসী, নরঘাতক, মানবতাবিরোধী ধর্ষকদের বাঁচাতে একের পর এক সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, দেশকে বিপদগ্রস্ত করছে। এ দলের নিবন্ধন বাতিল করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে হানিফ এ প্রতিক্রিয়া জানান। টিএসসি মিলনায়তনে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি মুজাহিদের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমি মনে করি এই রায়ে দেশের মানুষও সন্তুষ্ট হয়েছে। আমাদের সরকার যেসব ভালো কাজ করছে তার জন্য জনগণ আবার মহাজোটকে সুযোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি জানান, আল বদরের প্রধান সংগঠক আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ রায়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণ উল্লসিত। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবির) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম রায়ের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন তা যথার্থ। এটা জন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মানবতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জনগণ চায়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে এই রায় শুভ লক্ষণ। দীর্ঘদিন পর হলেও এই ঘৃণ্য অপরাধীদের বিচার হচ্ছে এটাই বড় কথা বলে জানান তিনি। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আল বদরের প্রধান কমান্ডারের সর্বোচ্চ শাস্তির রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। পাশাপাশি এই আল-বদর বাহিনীর দল বিশৃঙ্খলা করতেই থাকবে তাই জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানান তিনি। কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায় বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ফরিদপুরবাসীর কলঙ্ক মোচন হল। আদালত জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের মেঝ ছেলে ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন ১০ ডিসেম্বর রাতের কথা খুব মনে পড়ছে। আরো মনে পড়ছে আমার মায়ের কথা। উনি এ বিচার দেখে যেতে পারলেন না বলে খুব মনোকষ্টও হচ্ছে। শাহীন রেজা নূর বলেন, মুজাহিদ যে বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এ রায়ের মধ্য দিয়ে তার বিচার হলো। আর এতদিন মুজাহিদরা যে বলে বেড়াতো একাত্তরে কিছুই হয়নি, সেই অপপ্রচারকারীদের মুখেও চপেটাঘাত হলো। মুজাহিদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শহীদ পরিবারের সন্তানেরা আমাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের পাব না। তবে একাত্তরের এই ঘৃণ্য অপরাধীর বিরুদ্ধে রায়ে স্বস্তি পেয়েছি। এর দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সংকট ও যন্ত্রণা আরও বাড়বে। যারা ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শুধু নয়, সংগঠন হিসেবে জামায়াতেরও বিচার দাবি করে শাহীন রেজা নূর বলেন, ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে যুদ্ধাপরাধীদের কেবল নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নানা ধরনের অপরাধে জড়িত বিভিন্ন সংগঠনেরও বিচারের মাধ্যমে জঙ্গী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাহলে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় যা করেছে, এতে ওদের বিচার কেন হবে না? শাহীন রেজা নূর বলেন, বর্তমান সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রে সফল কিংবা ব্যর্থ তা সময়ই নির্ধারণ করে দেবে। তবে জাতির ললাটে থাকা কলঙ্ক মোচনের ক্ষেত্রে এ সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয় ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম মহাসচিব শফিকুল বাহার মজুমদার টিপু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, একাত্তরের ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের ফাঁসির রায়ে মুক্তিযোদ্ধারা খুশি হয়েছে।