নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সংকট কাটছে না কিছুতেই

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১২
গ্যাসের সংকটে নারায়ণগঞ্জের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে গতকাল বুধবার শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহবধূরা চুলা হাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করা না হলে তারা শহরে ঝাড়ু মিছিল করে তিতাস অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়া হবে বলে গৃহবধূরা ঘোষণা দেন। কয়েক মাস আগেও গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির দাবিতে শহরবাসী তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও করেন। সেই সময় তিতাস গ্যাস অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পালিয়ে গেলে অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। গতকাল গৃহবধূরা তিতাস কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঝাড়ু, জুতা ও গ্যাসের চুলা নিয়ে প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমবেত হন। শত শত নারী মিছিল করতে করতে ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘরে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। গ্যাসের অভাবে দিনের বেলাতেও রান্নার কাজ করা যাচ্ছে না। শহরের পশ্চিম দেওভোগ, কাশিপুর, বাবুরাইল, পাইকপাড়া, শহীদ নগর, নলুয়াপাড়া, ভুঁইয়ারবাগ, চাঁনমারী, ইসদাইর, মাসদাইর, পশ্চিম মাসদাইর, জামতলা, দাতা সড়ক প্রভৃতি এলাকায় গ্যাস সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পশ্চিম দেওভোগ, গলাচিপা, কাশীপুর, মাসদাইর, বাড়ৈভোগ ও বিসিক শিল্প নগরীর আশপাশ এলাকায়। এসব এলাকায় গ্যাস থাকে না বললেই চলে। দেওভোগ এলাকার গৃহবধূ দুলারী রহমান জানান, আগে সকাল নয়টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত গ্যাস একেবারে নিভু নিভু অবস্থায় থাকত, এখন গ্যাস থাকে না বললেই চলে। বাবুরাইল এলাকার রোকছানা খবির জানান, রাত দুইটার পর খুব অল্প পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যায়। যে কারণে রান্না-বান্না করাটা বেশ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। সরবরাহ লাইনের গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাস সিলিন্ডার ও স্টোভের দাম বেড়ে গেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলিন্ডার প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে। এ কারণে অনেকে দুপুরে কেরোসিন, লাকড়ির চুলা বা ওভেনে রান্না করছেন। বেড়েছে লাকড়ির দাম। গ্যাসনির্ভর কলকারখানায় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। গ্যাস সরবরাহ ঠিকমতো না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক যথাসময়ে বিদেশে শিপমেন্ট করতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের অর্ডার কমে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান মালিকরা শিকার হচ্ছে কঠিন আর্থিক লোকসানের। গ্যাস ঠিকমতো সরবরাহ না থাকলেও আগের মতোই গ্যাস বিল গুনতে হচ্ছে। অনেকেই বলছেন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সমস্যা দেখা দেবে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে। বিকেএমইএ-এর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান অবশ্য জানিয়েছেন, কষ্ট হলেও ঈদের আগেই ফ্যাক্টরি মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করবেন। তবে এক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওয়াহিদু্জ্জামান জানান, গ্যাস সমস্যার কারণে ডাইংয়ের কাপড় রং করার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। ফতুল্ল¬¬ার কাঠেরপুল, সস্তাপুর, লালপুর, পঞ্চবটি, রসুলপুর, নন্দলালপুর, দাপা, পাগলা প্রভৃতি এলাকায় গ্যাসনির্ভর সহস্রাধিক রফতানিমুখী গার্মেন্টস, ডাইং, প্রিন্টিং, স্টিল রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব শিল্পকারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের ডিজিএম জানান, আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট বেড়েছে এটা ঠিক। তবে বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে গ্যাস সংকট বেড়েছে। সেই সাথে ভাঙ্গুরা গ্যাস ফিল্ডে ত্রুটি দেখা দেয়ায় নারায়গঞ্জের গ্যাস সংকট অধিকতর তীব্রতর হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা তিনি র্নিদিষ্ট করে বলতে পারেননি।