বারক্লেস ব্যাংককে ৪৫ ব্রিটিশ এমপির চিঠি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৪
ব্রিটেনে বন্ধের ঝুঁকিতে পড়া অর্থ আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৪৫ জন এমপি বারক্লেস ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। গত ১০ জুলাই ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী পরিচালক এনটনি জেনকিন্স বরাবর লেখা এ চিঠিতে তারা মানি ট্রান্সফার এজেন্সিগুলোর একাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। আগামীকাল শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এমপি রুশনারা আলী এসব বিষয়ে জানাবেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী মানি ট্রান্সফার এজেন্সিগুলোকে রক্ষায় গত ২ জুলাই হাউজ অব কমন্সে আরো ১০ জন এমপিকে নিয়ে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেন। তারই অংশ হিসেবে এ চিঠি দেয়া হয়। সম্প্রতি তিনি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে রেমিটেন্সের গুরুত্ব তুলে ধরে গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন। উল্লেখ্য, বারক্লেস ব্যাংক ব্রিটেনের অধিকাংশ মানি ট্রান্সফার এজেন্সিকে তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত সময় দেয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঝুঁকিতে পড়ে। যার মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানাধীন ১১টিসহ বাংলাদেশি প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মানি ট্রান্সফার ব্যবসায় অবৈধ অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মত ঝুঁকি থাকায় বারক্লেস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে বারক্লেস একাউন্টগুলোর মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে। চিঠিতে এমপিরা বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসেবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী রেমিটেন্সের প্রবাহ ছিল ৫শ ৩০ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে শুধু ব্রিটেন থেকে রেমিটেন্স গেছে প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার যা ব্রিটিশ সরকারের বৈদেশিক সাহায্য বরাদ্দের পাশাপাশি আরেকটি গর্বের বিষয়। এছাড়া প্রতিবছর বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচনসহ নানা কারণে যে পরিমাণ আর্থিক সাহায্য বিলি হয়, তার চাইতে রেমিটেন্সের এই পরিমাণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা অনেকগুণ বেশি। তারা বলেন, ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিবেচনায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার বারক্লেসের রয়েছে। কিন্তু কোনো কনসালটেশন ছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রেখে বাকিদের একাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার কারণ তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তারা এ্যাকাউন্টগুলো অন্তত আরো ৬ মাস চালু রাখার দাবি জানান। যাতে ব্রিটিশ সরকার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি’ এ বিষয়ে সমাধান খোঁজার সুযোগ পায়।