রমজান মাসেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট চলছে। পানি সরবরাহ নিয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নতুন সিডিউলের কারণে পানি সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনিতেই পানির সংকট রয়েছে। মসজিদে মুসল্লিরা ওজু করার পানি পর্যন্ত পাচ্ছে না। বন্দরনগরীর উঁচু এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের পানি নিয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। পাম্প হাউজগুলোতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ও বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন স্থাপন করেও পানির সরবরাহ বাড়াতে পারছে না ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। পাম্পগুলো জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় উত্পাদন ক্ষমতা অনেকাংশেই কমে গেছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, রমজান মাসে পানি বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন সিডিউল নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এবং রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। নগরবাসী ইফতারি, সেহেরি ও তারাবীর সময় পানি নিয়ে দুর্ভোগ লাঘবে এই সিডিউল নির্ধারণ করা হয়েছে বলা হলেও দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে দিনের বেলায় অর্ধেকেরও বেশি সময় লোডশেডিং চলছে। এতে পানি সঠিক সময়ে উত্তোলন করতে পারছে না গ্রাহকরা। গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকদের কাছ থেকে পানি সংকট নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে হালিশহর, আগ্রাবাদ, লালখান বাজার, এনায়েত বাজার, ডবলমুরিং, খুলশী, নাসিরাবাদ, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া এলাকায় পানির চরম সংকট চলছে। এসব এলাকা থেকে গ্রাহকেরা অভিযোগ করেছেন ওয়াসার নতুন সিডিউলের কারণেই পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। মসজিদে ওজু করার জন্য পানি পাচ্ছে না মুসল্লিরা।
নগরীর পানির চাহিদা দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি লিটার। রোজার মধ্যে চাহিদা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও ৯৪টি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক ২০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দিচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাই গত ৪/৫ বছর যাবত্ রেশনিং পদ্ধতিতে নগরীতে পানি সরবরাহ দিচ্ছে ওয়াসা। এলাকাভেদে সপ্তাহে একদিন থেকে ৫ দিন পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিতে পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। ওয়াসার ৯৪টি নলকূপের মধ্যে অধিকাংশই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় পানি উত্পাদন কমে গেছে। আর এসব নলকূপে প্রায় সময় যান্ত্রিক ত্রুটি লেগে থাকায় পানি উত্পাদন বন্ধ থাকে। ৯৪টি নলকূপের মধ্যে ৫৬টিতে বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন ও ডিজেলচালিত জেনারেটর বসানো হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কবল থেকে পাম্প হাউজগুলোকে মুক্ত রাখতে এ ব্যবস্থা নেয়া হলেও সুফল মিলছে না। পাম্প লাইনে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গেইট বাল্ব বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, পানির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকট সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে। নতুন পানি শোধনাগার নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত পানি সংকট নিরসন সম্ভব নয়।
