খুলনায় রমজানের শুরুতেই বাসা-বাড়িতে জ্বালানির কাজে ব্যবহূত এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বরাবরের মত আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির দোহাই দিয়ে এবারো আরেক দফা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত দুই মাসে দুই দফায় গ্যাসের দাম কিছুটা কমায় গ্রাহকদের মাঝে অনেটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল। কিন্তু রমজানের প্রারম্ভেই প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম গড়ে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক বিপাকে পড়েন। বর্ধিত মূল্য অনুযায়ী এখন প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ১ হাজার ৩৭০ টাকার স্থলে ১ হাজার ৪২০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে গুঁড়া দুধের দামও কৌটা প্রতি গড়ে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শিশুদের মায়েরাও পড়েছেন সমস্যায়।
পবিত্র রমজান মাসে বাজারের এ অস্থিতিশীলতা খুলনার ৬০ হাজার গ্রাহককে চরম দুর্ভোগে নিপতিত করেছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অবস্থা এমন হয়েছে যে, তারা না পারছেন সইতে আবার না পারছেন কোন কিছু করতে। নীরবে কষ্ট সহ্য করে চড়ামূল্যে তারা গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর নিয়মিত অজুহাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বিপিসির সরকারি গ্যাসের সরবরাহ আপাতত বন্ধ থাকায় বিপাকে ফেলে দিয়েছে নগরবাসীর একটি শ্রেণিকে। যারা সরকারি ন্যায্যমূল্যে ৭৫০ টাকায় গ্যাস পেতেন তারাও পড়েছেন সংকটে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হলেও এতে কারো কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ’৮০’র দশকে তিনশ’ টাকার এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ১ হাজার ৬শ’ টাকায় পৌঁছায়। সময়ের বিবর্তনে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গ্যাসের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তাকে অস্বাভাবিক হিসাবে দেখছেন ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুলনায় বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন যারা নিয়মিত গ্যাস ব্যবহার করেন। বিপুলসংখ্যক লোক গ্যাস ব্যবহার করলেও খুলনায় সে তুলনায় সরবরাহ অপর্যাপ্ত। সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনাঞ্চলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তিনটি ডিপো রয়েছে। এগুলো হচ্ছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। এ তিনটি ডিপো থেকে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য চাহিদামত এলপি গ্যাস সরবরাহ করার কথা। কিন্তু প্রভাবশালীরা ছাড়া এ গ্যাস সাধারণ মানুষ পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বসুন্ধরা কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৫০ টাকা দাম বেড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রাইভেট ফিলিং সাড়ে ১২ কেজি ওজনের গ্যাস ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪২০ টাকা, ক্লিনহিট সাড়ে ১২ কেজি ওজনের গ্যাস ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ টাকা, যমুনা প্রাইভেট ফিলিং ১২ কেজি ওজনের গ্যাস ৫০ টাকা দাম বেড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা, ১২ কেজি ওজনের টোটাল গ্যাসের দাম ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে হঠাত্ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ছোট বাবুদের (শিশু সন্তান) মায়েরা পড়েছেন সমস্যায়। অনেকের কাছে এ রমজানে সংসারের নৈমিত্তিক খরচের সাথে বাচ্চাদের দুধের খরচ মিলিয়ে মাস শেষে হিসাব মিলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক মাস আগে ৪শ’ গ্রাম ওজনের এক কৌটা মাদার স্মাইল নামক গুঁড়া দুধের দাম ছিল ৪৮০ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৩০ টাকা। অর্থাত্ গুঁড়া দুধের দাম কৌটা প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
