হুমায়ূন আহমেদ জীবিত থাকাকালে নুহাশ পল্লীতে যেভাবে ইফতার করতেন, ঠিক সেই সাধারণভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। খেজুর, পিঁয়াজু, ছোলা, বেগুনীর সাথে মুড়ি মেখে সবাই একসাথে ইফতার করতে পছন্দ করতেন তিনি। তার পরপরই তেহারী খেতে পছন্দ করতেন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকীতে এসব থাকবে। শাশুড়ি আয়েশা ফয়েজসহ পরিবারের সবাইকে দাওয়াত করা হয়েছে— বলছিলেন হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন।
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে আজ শুক্রবার গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে নিজ হাতে গড়া নুহাশ পল্লীতে তার সমাধি প্রাঙ্গণে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। আশেপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ূন আহমেদের কয়েকজন ঘনিষ্ট লেখক মিলিয়ে সাড়ে ৪’শ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার শূন্যতা শুরু হয়েছে। এ শূন্যতা কোন দিন পূরণ হওয়ার নয়। তিনি বলেন, তার মৃত্যুর পর নূহাশ পল্লীর যাত্রা থেমে গেছে। হুমায়ূন আহমেদই নুহাশ পল্লীর উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা করতেন। নানান স্বপ্নের মাধ্যমে নুহাশ পল্লীকে তিনি সাজাতেন। এখন তিনি নেই। তাই সব থমকে গেছে। তিনি বেঁচে থাকলে নূহাশ পল্লীকে হয়তো আরো অনেক সুন্দর করে সাজাতেন। শাওন জানান, হুমায়ূন আহমেদ নানাভাবে মজা করতে ভালবাসতেন। জীবিত থাকাকালে নিজের কুলখানীর আয়োজন করে বন্ধুদের খাওয়াতে চেয়েছিলেন। এটা করতে পারলে তিনি খুব মজা পেতেন। এই যে তার কবরে উন্নয়ন কাজ চলছে আমার বিশ্বাস তিনি বেঁচে থেকে দেখতে পারলে একই রকম মজা পেতেন। শাওন বলন, হুমায়ূন আহমেদ নিজের পুরোনো নাটক, সিনেমা দেখতে এবং নিজের লেখা বই পড়তে ভালবাসতেন। নিউইয়র্কে থাকার সময় নিজের নাটক নিমফুল দেখে বলেছিলেন, এ নাটকটি নতুন করে বানালে আরো সুন্দর করতে পারতাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নুহাশ পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, হুমায়ূন আহমেদের কবর শ্বেতপাথরে বাঁধাই করা হচ্ছে। চারপাশে দেয়াল ও কাঁচ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করা হচ্ছে। নুহাশ পল্লীর কর্মচারীরা কবরে চারদিকে সবুজ ঘাস বসাচ্ছে ।
নুহাশ পল্লীর কেয়ারটেকার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, শাওন ম্যাডাম দুই শিশু পুত্র নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে নুহাশ পল্লীতে আসেন। স্যারের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সব আয়োজন তিনি তদারক করবেন। তিনি নিজ হাতে ছেলেদের সাথে নিয়ে এতিমদের সাথে ইফতার করবেন। এদিকে আজ শুক্রবার হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শহরের দীঘিরচালার বুলবুল টাওয়ারে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আযোজন করা হবে। স্মৃতি সংসদের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বাবুল ও সদস্য সচিব মুনির হোসেন মোল্লা সংসদের পক্ষে সকলকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
