ঈদের দিনটি বরাবরই থাকে অনেক আনন্দের। এই দিনটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত থাকে টিনএজাররা। প্রাণবন্ত তারুণ্য প্রকাশ পায় তাদের দেহ-ত্বকের সজীবতায় ও নমনীয়তায়। এই দিনে তরুণ-তরুণীরা যেমন চালচলনে, পোশাক-পরিচ্ছদে সচেতন থাকে, তেমনি সচেতন থাকে তাদের দৈহিক সৌন্দর্য নিয়েও। তাই ঈদকে সামনে রেখে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে হেয়ারস্টাইলেও থাকে ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া। তাই এই ঈদকে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের নানা প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক
ঈদের দিনে সকলেই নিজেকে সাজিয়ে তুলতে চায় অন্যের চেয়ে আলাদাভাবে। তাই সবার মাঝেই পোশাক-পরিচ্ছদ, সাজগোজ প্রভৃতিতে তাদের স্বাতন্ত্র্যের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। সবকিছু ছাপিয়ে ঈদের দিনটিতে তরুণ-তরুণীরা তাদের পোশাকে ব্যক্তিত্বময় মনোভাব গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকে। পোশাক-পরিচ্ছদে নিজেকে ভিন্নধারায় উপস্থাপনের চেষ্টা করে তারা। তবে, বেশিরভাগ তরুণ চলমান স্টাইল বা রীতিকে প্রাধান্য দেয়। যুগানুসারে এখনকার তরুণ-তরুণীরা ওয়েস্টার্ন লুকে নিজেকে সাজাতে পছন্দ করে। আবার এর ব্যতিক্রমও আছে। কারও কারও মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতির আবেগ-ভালোলাগাও জড়িয়ে থাকে। পোশাক একটি জাতির সংস্কৃতির বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে পাঞ্জাবি, ফতুয়া পরতে অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার টিশার্ট ও জিন্স সবচেয়ে আরামদায়ক ও সুবিধাজনক। মেয়েরাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তারাও ফতুয়া, শর্ট কামিজ ও জিন্স পরতে বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। টিনএজে যদিও মুক্তির একটা আভাস মেলে, আভাস মেলে রোমান্স ও গ্ল্যামার্সের, কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক কারণে এখনও বন্দী করে রাখতে হয় এসব। তবুও টিন বলে কথা, বাধা-বিপত্তি দূর করে চলতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের কাপড়ের তালিকায় রয়েছে গ্যাবাডিন ও জিন্স কাপড়ের প্যান্ট। ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে তা পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তবে কাপড় যা-ই হোক না কেন, কাপড়ের সেলাই, রং ও কাটিংয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ রয়েছে। তরুণীরা এখন চাপা জিন্সের প্রতি ঝুঁকছে বেশি। আর কাটিংয়ে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানানসই টপস, ফতুয়া ও টি-শার্ট পরতে পছন্দ করে। শর্ট কামিজ তো রয়েছেই। কামিজের কাটিং, ডিজাইনেও নিজেরাই পছন্দ করে দর্জি থেকে বানিয়ে নেয়। তবে, তরুণ-তরুণীদের কথা মাথায় রেখে তাদের পছন্দ ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের দেশের ফ্যাশন হাউসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর এক্সপোর্ট গার্মেন্টস অ্যান্ড নিটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির কথা তো বাদই দিলাম।
ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি ফ্যাশন হাউস এবার ঈদকে ঘিরে সাজিয়েছে তাদের পসরা। আর সাথে বসুন্ধরা, পলওয়েল, উত্তরার রাজলক্ষ্মী ইত্যাদি মার্কেটগুলোতেও বসেছে ঈদের জমজমাট বাজার। এসব ফ্যাশন হাউসে মিলতে পারে টিনদের জুতসই পোশাক। আবার বঙ্গবাজার, নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের মতো জায়গায় তরুণ-তরুণীদের পছন্দনীয় পোশাক কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। তবে, এসব জায়গায় কেনার সময় কাপড়ের মান আর খুঁত ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। আর দরকষাকষি তো থাকছেই। সবকিছু মিলিয়ে তরুণ-তরুণীরা তৈরি করে নিতে পারেন নিজস্ব স্টাইল।
যেমন হতে পারে আপনার প্রস্তুতি
ঈদ উত্সবে কী করবেন তার একটি তালিকা করুন। এর মধ্যে পরিবারের সবার জন্য নতুন জামা-কাপড় কেনা, বয়স্কদের জন্য আলাদা উপহার দেওয়া, প্রিয়জন বন্ধুবান্ধবদের জন্য উপহার কেনা থেকে শুরু করে খাবারদাবারের আয়োজন, বাইরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি থাকতে পারে। এ কাজগুলো সম্পন্ন করতে আনুমানিক কত খরচ হতে পারে তার একটি হিসাব করুন। বাজেট অনুযায়ী আপনার ঈদের কেনাকাটার ফাইনাল তালিকা ঠিক করুন। বাজেটে, সাধ্যে না কুলালে আপনি ঈদে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বাদ দিতে পারেন। যা না কিনলে চলবে না তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রেখে বাকিগুলো বাদ দিন। ঈদে আপনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাঙামাটি অথবা কক্সবাজার বেড়াতে যাবেন বলে চিন্তাভাবনা করছেন, তাহলে আপনাকে ওখানকার হোটেল-মোটেল কিংবা রেস্ট হাউসে বুকিং দিয়ে ঠিক করতে হবে। আগে থেকে বুকিং না করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদে বেড়াতে গিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঈদের কেনাকাটা ঠিকঠাক মতো সারতে তালিকা অনুযায়ী বাজারে গিয়ে কেনাকাটা শুরু করে দিন। এ জন্য অনেকে বারবার বাজারে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে গলদঘর্ম হন। ঈদ মৌসুমে শপিংমল, মার্কেটগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে সুস্থ এবং নিরাপদে ঈদের কেনাকাটা করতে আপনার সুবিধা অনুযায়ী সিডিউল ঠিক করুন।
পরিকল্পনামাফিক ঈদ শপিংয়ে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা ব্যাগে গুছিয়ে নিন। কোন মার্কেট বা শপিংমলে আপনার পছন্দের পোশাক-আশাক পাওয়া যাবে তা আগে থেকে জেনে নিশ্চিত হয়ে সেখানে যান। যাদের জন্য ঈদের কেনাকাটা তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত। যদি তাদের নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয় তাদের পছন্দ সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে যাবেন। আজকাল নগদ টাকা-পয়সা নিয়ে শপিং করতে যাওয়ায় নানা ঝুঁকি রয়েছে। ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে পারেন, জাল নোটের বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। এ জন্য সুযোগ থাকলে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে ঈদ শপিংয়ে যেতে পারেন। ঈদের কেনাকাটায় অনেকে কেনা জিনিস হারিয়ে ফেলেন কিংবা দোকানে ফেলে চলে আসেন হুড়োহুড়ির কারণে। এ জন্য তাড়াহুড়ো না করে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন ঈদ শপিংয়ের সময়। কেনাকাটার পর ব্যাগগুলো গুনে রাখুন। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাওয়ার সময় আবার গুনে নিন।
ঈদের পরিকল্পনায় নিজের সাজগোছের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের সাজসজ্জার দিকেও নজর দিন। যদি কোনো জিনিস বেশি পুরোনো হয়ে গিয়ে থাকে সেটা ঈদে পাল্টে নিতে পারেন। যেমন জানালার পর্দা, বিছানার চাদর ড্রয়িং রুমের সোফার কভার ইত্যাদি পুরোনো হলে ঈদ উত্সবকে সামনে রেখে বদলে নতুন কিছু সংযোজন করতে পারেন। যা আপনার ঈদ আয়োজনে ভিন্নমাত্রা দেবে সন্দেহ নেই। ঈদে নিজেকে সাজানোর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন। চুলের স্টাইল যদি বদলাতে চান, তাহলে আগেভাগেই বিউটিশিয়ানের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করে নিন কোন হেয়ার স্টাইলটি আপনাকে মানাবে ভালো। আগেভাগেই ভ্রু প্লাক, চুল কাটা, মেকওভার ও স্পা করার জন্য পার্লারে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। ঈদের উত্সবে স্পেশাল খাবারদাবারের আয়োজন থাকে সব বাড়িতেই এবারে ঈদে কী ধরনের খাবার মেন্যু থাকবে তা পরিবারের সবাই মিলে ঠিক করুন। গতানুগতিক পোলাও, কোরমা, রোস্ট, বিরিয়ানির বাইরে ভিন্ন স্বাদের খাবারের আয়োজন করতে পারেন পরিবারের সবার পছন্দে।
