ওরাই করবে জয়

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৪
তাদের কেউ কেউ স্কুলে-কলেজে পড়ছেন, কেউ কেউ পাস করেছেন সেই গণ্ডি। স্বপ্ন ওদের নতুন কিছু করার! তাদের প্রত্যয় দেশকে গড়বে। তারা ‘আমরা করব জয়’-এর গর্বিত সদস্য। এটিএন বাংলার জনপ্রিয় এই শিশুতোষ সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানটি ২০০৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিস্ময়কর সাফল্যের দেখা পেয়েছে। এমি অ্যাওয়ার্ড, রিজিওনাল অ্যাওয়ার্ড আর প্রতিবছরই ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রণীত মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের বড় অংশ থাকছে ‘আমরা করব জয়’-এর একদল চোখা শিশু সাংবাদিকের হাতে। তাদের সাফল্য, প্রাপ্তি আর স্বপ্নের কথা নিয়ে আজকের আয়োজনে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র আর ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু দেশের সর্বপ্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলা বরাবরই ব্যতিক্রম কিছু করতে চেয়েছে দর্শকের জন্য। এ রকমই ভাবনায় আর শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ‘আমরা করব জয়’-এর যাত্রা শুরু। ড. মাহফুজুর রহমানের ঐকান্তিক প্রয়াসে শুরু থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন তারা। আর তাদের বড় বিশেষত্ব হলো, এখানে ছেলেমেয়েদের সংখ্যা সমান সমান, একইভাবে সুবিধাভোগী আর সুবিধাবঞ্ছিতদের সংখ্যাও অর্ধেক অর্ধেক। এতে করে সামাজিক বিদ্যমান বৈষম্য হ্রাসেও মুখ্য ভূমিকা রেখে চলেছে তারা। বলছিলেন এই অনুষ্ঠানের নির্বাহী প্রযোজক ও এটিএন বাংলার ভাইস প্রেসিডেন্ট তাশিক আহমেদ। ‘আমরা করব জয়’-এর সিনিয়র রিপোর্টারদের একজন রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা। সাংবাদিকতাকেই মনে প্রাণে ধারণ করে এই বিষয়েই স্নাতকে পড়ছেন তিনি এখন। ২০০৩ সালে যোগদানের পর থেকে দু’বার মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছেন তিনি। তানজিয়া ইসলাম প্রিয়াঙ্কার যোগদানও ২০০৩ সালে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে। শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী ২০০৯ সালে প্রতিবন্ধীদের উপর অসাধারণ এক প্রতিবেদন করে জিতে নেন সেরা পুরস্কার মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। ‘আমরা করব জয়’-এর সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান ইমা, তনিমা আক্তার, তানজিলা আক্তার মীম—তারা সবাই এখনও স্কুলে পড়ছেন। ২০১১ সালে তারা এই টিমে যোগ দেন। তাদের প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অর্জন হলো অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠান পরিচালনা, উপস্থাপনা, ক্যামেরার কাজ এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়তো আর হতো না।’ তাদেরকে কোনো প্রশ্নে আটকানোর সুযোগ নেই, বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরেই বুঝিয়ে দেন, ক্ষুদে হলে কী হবে, সাংবাদিক তকমাটা তাদেরও প্রাপ্য। বাবার ইচ্ছেয় ২০০৭ সালে ‘আমরা করব জয়’-এ কাজের জন্য সিভি জমা দেওয়া। সুযোগটাও হয়ে গেল। মনির হোসেন তপু’র কথা বলছি; প্রতিবন্ধীদের উপর একটি বিশেষ প্রতিবেদন করে ২০০৯ সালে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের খাতায় নাম তোলেন। আরেক চৌকস রিপোর্টার মালিহা ওয়াদুদ চাঁদনী, চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার খুব ইচ্ছে তার। আর এই লক্ষ্যে এখানেই সবচেয়ে ক্ষুদে রিপোর্টার হিসেবে ২০০৩ সালে কাজ শুরু করেন। এরপর এক দশকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করে নিয়েছেন। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে অধ্যয়নরত তিনি। নাজমা আক্তার আর রাসনা দাশও ‘আমরা করব জয়’-এর শুরুর দিককার সদস্য। সিনিয়র হওয়ায় তাদের নেতৃত্বের গুণটাও বেশ সমৃদ্ধ। এখানে কাজ করার ফলে ব্যবস্থাপনা আর পরিচালনার দিকটা হাতে কলমে শিখতে পেরেছেন তারা। প্রিয়ন্তী দেবনাথ পূজা ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের শিক্ষার্থী। দেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন তার। একই রকম স্বপ্ন নিয়ে ‘আমরা করব জয়’-এ যোগদান ইমদাদুল ইসলাম আদর ও মাহমুদুল হাসানের। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে তাদের দারুণ আগ্রহ, সেই সুযোগটা ‘আমরা করব জয়’ এনে দিয়েছে তাদের। ‘আমরা করব জয়’-এর আরেক তরুণ তুর্কী শায়েকা মিনহাজ পূর্ণিমা। হলিক্রস কলেজের এই শিক্ষার্থী খুব গুছিয়ে আমাদের বলেছেন তার স্বপ্নের কথা। এখানে কাজ করতে এসে সাংবাদিকতার প্রতি দারুণ ভালোবাসা জন্মে যায়; এখন তিনি বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যমে কাজ করতে চান। সেই ইচ্ছাই প্রতিদিন তাকে নতুন করে সামনে এগিয়ে নেয়। শিশুতোষ অনুষ্ঠান মানেই সেখানেই সীমাবদ্ধ নন, তিনি ভালোবাসেন ক্রাইম রিপোর্ট করতে। একইভাবে খেলাধুলার রিপোর্টের দিকে দারুণ ঝোঁক খাইরুল ইসলামের। প্রথমে ইন্টারভিউ, এরপর আর সবার মতো প্রশিক্ষণ নেওয়ার মাধ্যমে এই দলে কাজ শুরু করেন। জাহিদুল আলম অভি আর মালিহা বশির এই দলের আরও দুজন রিপোর্টার। অভি পড়ছেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আর মালিহা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে। লেখাপড়ার বিষয় যাই হোক না কেন, ‘আমরা করব জয়’-এর থেকে যে অর্জন আর অভিজ্ঞতা, সেটা জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই অনেকভাবে অবদান রেখে যাবে বলে মনে করেন তারা। তরুণ এই দলটি জানান, সবাই মিলে চেষ্টা করলেই অনেকদূর এগোনো যাবে। আর ‘আমরা করব জয়’ এ যাত্রায় অগ্রণী হতে চায়। আমাদেরও বিশ্বাস, এই প্রজন্ম যেদিন দেশ চালাবে, সেদিনের বাংলাদেশ হবে অনেক সুন্দর।