বিনোদনের জন্য টিভি চ্যানেলগুলোতে নানা রকমের অনুষ্ঠান করে থাকে। এসবের মধ্যে কমেডি ধাঁচের মুভি এবং টিভি শোগুলোর রয়েছে অনেক জনপ্রিয়তা। সিঙ্গাপুরের এমনই এক কমেডি প্রোগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন মিশেল। বিজয়ী এই তরুণকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
সিঙ্গাপুরের এক মজার অনুষ্ঠান ‘দ্য নুজ’। প্রতিবছরের শেষভাগে তা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো সিঙ্গাপুরের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এ দিনটির জন্য। সাধারণ কোনো অনুষ্ঠান নয় এটি। এ অনুষ্ঠানে এসে মানুষ পায় নির্মল আনন্দের স্বাদ। নানা ধরনের কৌতুকে ভরা থাকে এই অনুষ্ঠানটি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা এই অনুষ্ঠানে এসে নিত্যনতুন মজাদার কৌতুক বলে দর্শক মাতিয়ে রাখে। সারা বছর ধরে তারা এ অনুষ্ঠানের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করে। আর এরপর শুরু হয় প্রতিযোগিতা। কে হবে সেরা আনন্দসৃষ্টিকারী!
প্রতি বছরের মতো গেল বছরও হয়ে গেল অনুষ্ঠানটি। তাতে আরও রং যোগ করে ছোট ছোট মজার জোকস বলিয়েরা। রং-বেরঙের জামাকাপড়, জুতো, কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে সেজে আসে তারা। একেকজন যেন ছোট ছোট রংধনু। প্রতিবছরের মতো সেবারও সেখানে হাজির হয়েছিল হাজারো কৌতুক বলিয়েরা। সেই সব প্রতিযোগীদের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে গেল যে মেয়েটি তার নাম, মিশেল। ‘মোস্ট ফানি ওমেন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাকে। সে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে প্যারোডি নির্ভর মজার পারফর্মেন্সের জন্য। সিঙ্গাপুরের চ্যানেল ৫-এ ‘দ্য নুজ’ নামক অনুষ্ঠানটিতে ব্যাপক দর্শক মাতিয়েছিল তার মজার অঙ্গভঙ্গি ও হাস্যরস দিয়ে। বারবারেলা, এক অনুষ্ঠানের পরিচালিকা। তার অনুকরণ করে অনেক মজার এক দৃশ্যের সৃষ্টি করে মিশেল নামের মেয়েটি। গত বছরে সে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ডে প্যারেডে অংশ নিয়েছিল। শোনা যায়, বারবারেলা থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে মেয়েটি এত অল্প বয়সেই।
কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসটাই এমন ছিল, মিশেলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তেছিল বারবারেলার ঘাড়ে। তবে তিনি এ নিয়ে মোটেই চিন্তিত না হয়ে বরং মিশেলের কাজের প্রশংসাই করেছেন। মিশেলও তার বক্তব্যে বলেছেন, বারবারেলার ব্যবহারে সে তার প্রতি কোনো অনীহা পায়নি, বরং তার আচরণ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। মিশেইল তার এ সাফল্যের জন্য বারবারেলাকে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘তার অনুকরণ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, আমি অনেক ভাগ্যবান, সেই সাথে আমি অনেক প্রেরণাও পেয়েছি ভালো কিছু করার।’ সে আরও যোগ করে, ‘তিনি আমার জন্য পথটা অনেক সহজ করে দিয়েছেন।’ রসিকতা করে বর্ষসেরা হওয়ার এ প্রতিযোগিতা সিঙ্গাপুরে খুব আলোচিত একটা ঘটনা। সকলে কাজের মাঝে, জীবন পথ চলতে গিয়ে যেন হাসতেই ভুলে গেছে। আর তাই প্রতিবছর এমন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজয়ী মিশেলের বলা কৌতুকগুলোর মধ্যে একটি ছিল, ‘টেকো মাথার অধিকারী ব্যক্তিরা কেন এমওএম (সিঙ্গাপুরের এক শ্যাম্পু কোম্পানি) থেকে বহিষ্কৃত হয়।’ এই কৌতুক বলেই তিনি ছিনিয়ে নিয়েছেন বিজয়ের মুকুটটি।
