তারুণ্যের আলোকবর্তিকা হয়ে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৯
‘সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে সাজেশন ও নোট নির্ভর যে পুঁথিগত চর্চা অব্যাহত ছিল, তা ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যাবে। বিশেষ করে এখন আর সার্বিক জ্ঞানার্জন ব্যাহত হবে না এবং বেরিয়ে আসবে প্রকৃত মেধাবীরা, যারা আমাদের সম্পদ।’ আব্দুল হালিম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ১৯৭৩ এর কথা। তখন পুরাতন ঢাকার লালবাগ এবং তত্সংলগ্ন এলাকায় তরুণ কিংবা শিশু-কিশোরদের মধ্যেও সু-শিক্ষার স্পর্শ বলতে তেমন কিছু ছিল না, ছিল না কোনো ভালো মানের স্কুল-কলেজ। ঠিক ওই সময় এলাকার কিছু বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে কৃতী ব্যক্তিত্ব বাবু নবকুমার ও ড. শহীদুল্লাহ’র নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নবকুমার ইনস্টিটিউট ও ড. শহীদুল্লাহ কলেজ। অতীতের অনেক চড়াই উতরাই, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে কলেজটি আজ এই এলাকায় আলোর মিছিল হয়ে আলোকিত মানুষ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলছে। এক কথায় পুরান ঢাকায় তারুণ্যের আলোকবর্তিকা এই কলেজ। এর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগীর নাম। এখনও বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী নিঃস্বার্থভাবে এর এগিয়ে চলায় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিরলস কাজ করেছেন অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম। কলেজটির ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্যের প্রশ্নে প্রথমেই চলে আসে এর দক্ষ ও দরদী শিক্ষকদের কথা। তারা প্রত্যেকেই অধ্যক্ষ আব্দুল হালিমের সুযোগ্য নেতৃত্বে আধুনিক সৃজনশীল শিক্ষাদান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রটিকেও স্পেশাল কেয়ারে সামনের সারিতে নিয়ে আসেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে তাদেরকে ক্লাসে ও বাড়িতে লেখাপড়ায় অধিকতর মনোযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া প্রতিদিনের পড়া ক্লাসেই সমাপ্ত করাসহ নিয়মিত টিউটোরিয়াল তথা অন্যান্য পরীক্ষা গ্রহণ এবং সময়মতো ফলাফল প্রকাশ করে ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে দুর্বল ছাত্রটির অভিভাবককেও যুক্ত করা হয়। এখানকার পরীক্ষা কমিটিকে দৃষ্টান্ত বলা চলে। কমিটি পরীক্ষার সবকিছু শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ না হলে বর্ষ সমাপনীতে তাকে কোনো প্রকার ছাড় তো নয়-ই বরং জবাবদিহি করা হয়। বিশেষকরে কোনোভাবেই তার প্রমোশন দেওয়া হয় না। এখানকার শিক্ষার মান তথা ফলাফলের যে ক্রমোন্নতি তাও ঈর্ষণীয় বলতে হয়। এখানে নিয়োজিত আছেন ছাত্র অনুপাতে পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষকগণ, যারা উপযুক্ত পাঠদানের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :১৬ উমেষদত্ত রোড, বকিশ বাজার, ঢাকা। ফোন :৭৩০০৮৪৬। এখানে ভর্তি মেধার ভিত্তিতে বোর্ড নির্দেশিত নিয়মানুযায়ী নেওয়া হয়। এখন ২০১৩-১৪ সেশনের ভর্তি প্রস্তুতি চলছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া, জাতীয় দিবসে অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি নিয়মিত পালন করাসহ অব্যাহত আছে, ইংরেজি বিষয়ে এক্সট্রা কেয়ার এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগসহ বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম।