শিক্ষকতা পেশা হিসেবে সম্মানীয় নিঃসন্দেহে। শিক্ষকতা পেশা জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি পৃথিবীর সব দেশে ও সব সমাজে এ সম্মান-মর্যাদা পেয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে শিক্ষকতা পেশা হিসেবে অন্যতম।
এক নজরে এ নিয়োগের কার্যক্রম :প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইত্তেফাককে জানায়, এ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে মোট ৭ হাজার প্রার্থী দেওয়া হবে। এতে পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাদে দেশের সব জেলার নাগরিকদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে। আবেদন করতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। আগ্রহী প্রার্থীকে অবশ্যই অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। প্রায় আগের নিয়োগ পদ্ধতিতেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থী নির্বাচিত হবে। এ ছাড়া এ বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এ অধিদপ্তর।
প্রার্থীর যোগ্যতা :পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে, সহকারী শিক্ষক পদে ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক ও সার্টিফিকেট-ইন-এডুকেশন বা সমমানের হতে হবে। তবে স্নাতকোত্তর বা সমমানের পাস প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। নারীদের ক্ষেত্রে, ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস থাকতে হবে। তবে উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে যেকোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ২ বা দ্বিতীয় বিভাগে পাস হতে হবে। প্রার্থী যে উপজেলা বা থানার স্থায়ী বাসিন্দা সেই উপজেলায় আবেদন করতে হবে। তবে বিবাহিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বামী বা বাবার স্থায়ী ঠিকানার দুটি থেকে যেকোনো একটি হতে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া বর্তমানে যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এমন ঠিকানা থেকেও আবেদন করার সুযোগ আছে। বয়স ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩২ বছর পর্যন্ত নেওয়া হবে।
আবেদন যেভাবে :প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার প্রথমবারের মতো সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া চলবে অনলাইনের মাধ্যমে। যা পরবর্তীতে নিয়মিতভাবে এ প্রক্রিয়া চলবে। ফলে আগ্রহী প্রার্থীকে www.dpe.gov.bd বা htt://dpe.teletalk.combd এ ওয়েবসাইড হতে আবেদন পূরণ করতে হবে। এর বিপরীতে একটি আইডি নম্বর ও পাসওয়ার্ড পাবেন। আবেদনপত্র সফলভাবে পূরণ শেষে মুঠোফোনের ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে একশত ৫০ টাকা পরীক্ষা ফি জমা দিতে হবে। সফলভাবে আবেদনপত্র ও ফি জমা হলে যোগ্য প্রার্থীদেরকে পরবর্তী ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে পরীক্ষা বিষয়ে তথ্য দেওয়া হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া :প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষা পদ্ধতি কী নিয়মে হবে তা এখনও প্রক্রিয়াধীন। তবে আগের নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে আলোকে এই নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লিখিত পরীক্ষা নৈর্ব্যক্তিক (এম.সি.কিউ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা প্রত্যেক জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস গঠিত কমিটির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে প্রধান করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সরকারি কলেজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে লিখিত পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা কমিটি হয়ে থাকে।
প্রস্তুতি নিতে হবে :প্রতিযোগিতা যেহেতু বেশি ফলে প্রস্তুতিও নিতে হবে খুব ভালোভাবে। মোট একশত নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে প্রথমে ৮০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হবে। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় চারটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকে। বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ২০ ও সাধারণ জ্ঞান ২০। এখান থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। মৌখিক পরীক্ষায় ২০ নম্বরের মধ্যে ৫ নম্বর থাকে প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফলের উপর। বাকি ১৫ নম্বরের পরীক্ষায় প্রার্থীর উপস্থাপনা ও বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বিষয়ে দেখা হয়।
এ ছাড়া নিয়োগকৃত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন সহকারী শিক্ষক জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৯ অনুযায়ী ৪৯০০-২৯০*৭-৬৯৩০-ইবি-৩২০*১১-১০ হাজার চারশত ৫০ টাকা ও প্রশিক্ষণবিহীনের ক্ষেত্রে বেতন হবে ৪৭০০-২৬৫*৭-৬৫৫৫-ইবি-২৯০*১১-নয় হাজার সাতশত ৪৫ টাকা পাবেন।
আরও জানতে পারেন :প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা। ফোন :৮০৫৭৮৭৭। ওয়েবসাইট :www.dpe.gov.bd
