সংবাদটা পড়েই হয়তো অনেকের গা শিউরে উঠতে পারে। একটু আধটু ঘেন্নাও উঁকি দিতে পারে কারও কারও মনের মাঝে। তবে আর দশজন মানুষের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন, বিজ্ঞানীরা কিন্তু এই খবরের মাঝেই সম্ভাবনায় এক ভবিষ্যতের আভাস খুঁজে পেয়ে উত্ফুল্ল বোধ করছেন। আর এই খবরটা হলো মানুষের তরল বর্জ্য বা মুত্র ব্যবহার করে সেলফোন চার্জ দেওয়ার পদ্ধতি আবিষ্কার। তবে তাই বলে আবার ভাববেন না যে অদূর ভবিষ্যতে আপনি নিজেই এভাবে মুত্রশক্তি(!)কে কাজে লাগিয়ে সেলফোন চার্জ দিতে পারবেন। বরং বিশেষ বিশেষ কিছু শৌচাগারের মাধ্যমে মানুষের অপ্রয়োজনীয় তরল বর্জ্যকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাই করছেন প্রাথমিক পরীক্ষায় সফল হওয়া যুক্তরাজ্যের এই বিজ্ঞানীরা। এর ফলে এখন যেভাবে বিভিন্ন প্রাণীর কঠিন বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে বায়োগ্যাস উত্পাদন করা যায় তখন শৌচাগারগুলোর সহায়তাতেই উত্পাদন করা যাবে স্বল্পমাত্রার বিদ্যুত্। ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল রোবোটিক্স গবেষণাগার এবং ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা যৌথভাবে দীর্ঘদিন থেকেই সূক্ষ অনুজীব বা ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক জ্বালানীকোষ নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। আর এই জ্বালানীকোষের মাধ্যমেই তারা সম্প্রতি মানুষের মূত্রে থাকা প্রধান প্রধান রাসায়নিক যৌগকে বিশ্লেষণ করে সেটিকে বিদ্যুত্ শক্তিতে রুপান্তর করতে সক্ষম হন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামগ্রীক হিসেবে ব্যাকটেরিয়া ও অনুজীবভিত্তিক জ্বালানীকোষ (এমএফসি) থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুত্ স্বল্পমাত্রার হলেও এটি মোবাইল ফোন তথা সেলফোনের চার্জিংয়ের জন্য যথেষ্ঠ। এ ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত আরও কিছু উন্নয়ন এবং শৌচাগারের মতো যেসব স্থানে অনেক মানুষের মূত্র জমা হয় সেই মূত্রকে কাজে লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হবে যেটি পক্ষান্তরে মানুষের ছোটখাটো বা পথচলতি বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারবে।
