গুম রোধে আইন প্রণয়ন জরুরি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩৮
গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের দাবি জানানো হয়েছে সিলেটে অনুষ্ঠিত গুম এর দায়মুক্তির বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শীর্ষক এক আলোচনা সভায়। গত রবিবার স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ‘অধিকার’ এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রেজাউল করিম হাসমীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আব্দুল গফ্ফার, তেল, গ্যাস রক্ষা কমিটি সিলেট আহ্বায়ক ব্যারিস্টার আরশ আলী, সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহমেদ নূর, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট রাজ উদ্দিন, বিএনপির মহানগর সহ-সভাপতি নাছিম হোসেন, কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক প্রমুখ। ‘গুম’ হতে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ অনুমোদনের প্রচার অভিযানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ সিলেটের কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক মো. মুহিবুর রহমান। ভিকটিম পরিবার নেটওর্য়াক এর সমন্বয়ক কোরবান আলী, ভিকটিম পরিবারের সদস্য ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ দিনারের পিতা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ, জুনেদের পিতা ছালেহ আহমদ। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মেট্রোপলিটন ‘ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষ এডভোকেট শহিদুল ইসলাম শহিদ, মহিলা কাউন্সিলর এডভোকেট সালমা সুলতানা, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন। মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৮৯ জন ব্যক্তি গুম হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৩ জন, ২০১০ সালে ১৮ জন, ২০১১ সালে ৩০ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে জুন পর্যন্ত ১৪ জন। ভিকটিম পরিবারের নেটওয়ার্ক সমন্বয়ক কোরবান আলী বলেন, বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান আছে কিন্তু গুমের ব্যাপারে কোন আইন নেই। তাই এ সম্পর্কে আইন হওয়া জরুরি। সিটি মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন ‘গুম’ শব্দটা কারও কাছে কাম্য নয়। যখন কোন দলের কোন্দল ও উপদলের সৃষ্টি হয় তখন গুমসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। তাই ‘গুম’ প্রতিরোধে অধিকারের সাথে সামাজিক ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যারা রাজনীতি করি তাদেরকে মানবতার কল্যাণে সময় দিতে হবে। এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করার জন্য সরকারকে আমাদের সকলের অনুরোধ জানানো উচিত। এডভোকেট আব্দুল গফ্ফার বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করেও একটা তরতাজা ছেলে তার বন্ধু নিয়ে নিখোঁজ হল কিন্তু সরকার তাদের খোঁজ দিতে পারলো না এটা দুঃখজনক। আমরা বিএনপি নেতা ইলিয়াছ আলীসহ তাদের সকলকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি করছি। আওয়ামী লীগ নেতা রাজ উদ্দিন বলেন, গুমসহ নানা অপরাধ সম্পর্কে আমরা যদি সোচ্চার হই তাহলে সকল সত্যের উদঘাটন হবে। সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহমেদ নূর বলেন, গুমের ক্ষেত্রে হয়তোবা কোন আন্তর্জাতিক সনদ নেই, কিন্তু মানবাধিকার সনদ আমাদের আছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করতে পারলে এসব অপকর্ম থেকে রেহাই পাব। ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতিহিংসা পরায়ণ মনোভাব দূর করতে হবে। রাজনীতিবিদদের কারণে এরকম অপরাধ সৃষ্টি হয়। তারা সোচ্চার হলে এ থেকে আমরা রেহাই পাব। ব্যারিস্টার আরশ আলী বলেন, আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। তাই আমাদের দেশে যখন যেটা আরম্ভ হয় এটা মহামারী আকারে দেখা দেয়। আরিফ মিয়া বলেন, গুম, খুন ও এনকাউন্টার হচ্ছে কিন্তু তার বিচার হচ্ছে না তাই সমাজের সকল মানুষকে তার প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বিএনপির মহানগর সহ-সভাপতি নাছিম হোসেন বলেন রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা না থাকলে কোনভাবেই গুম হওয়ার কারণটা উদ্ঘাটন করা সম্ভব নয়। সিলেটে পর পর ৪ জন লোক নিখোঁজ হয়। কিন্তু একটিরও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি সরকার।