ত্রিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার বিতরণ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩৯
বাংলাদেশে এই প্রথম স্কুল নিউট্রিশন প্রোগ্রাম এর আওতায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় হাজার চার শত পাচ জন শিক্ষার্থীকে দুপুরে রান্না করা গরম পুষ্টিকর খাবার দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের পুষ্টিহীন শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে এবং স্কুলে সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতির লক্ষ্যে এ কার্যক্রম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আর্থিক সহযোগিতা করছে দুবাই কেয়ারস্ ও গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন ( গেইন) । এর বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাঁচতে শেখা। বাঁচতে শেখা উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার ফলে পুষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন পুষ্টিসম্পন্ন খাবার পাচ্ছে, অন্যদিকে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত হচ্ছে। একই সংগে শিক্ষার্থীরা স্কুলের ক্লাসে মনযোগী হচ্ছে এবং ভাল রেজাল্ট করছে। বাঁচতে শেখা নামের এই সংস্থাটি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত জুন, ২০১২ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ২২টি বিদ্যালয়ের ৬৪০৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ২০৫ দিন খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সপ্তাহে তিনদিন ৭০৫ কিলো ক্যালরী ও ১৯ গ্রাম প্রোটিন শক্তি মানের বাদাম ছোলা মিশ্রিত সবজি খিচুড়ী, তিনদিন ৭১৫ কিলো ক্যালরী ও ২০ প্রোটিন শক্তি মানের সবজি-ভাত এবং প্রত্যেক মাসের শেষ তারিখে ৭৩৩ কিলো ক্যালরী ও ২০ গ্রাম প্রোটিন শক্তি মানের চিকেন বিরিয়ানী পরিবেশন করা হয়। উক্ত খাবার খেয়ে প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব আনন্দে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গমেজ, সহকারী নির্বাহী পরিচালক প্রদীপ মার্সেল রোজারিও, পরিচালক নজরুল ইসলাম ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মফিজুল হক এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, পুষ্টিহীনতা দূর করা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখা। গত ৮ জুলাই হরিরামপুর ইউনিয়নের জুবাইদা ফিরোজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের বারান্দায় পাটি/চট বিছিয়ে সারিবদ্ধ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা রান্না করা গরম খিচুড়ী উত্সাহ নিয়ে খাচ্ছে। এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাহায্য করছে অভিভাবকদের নিয়ে গঠিত মাদারস ক্লাবের সদস্যরা। তারা শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ এবং থালা-গ্লাস ধুয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই মাদার ক্লাবের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের খাবারের সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন। বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেকেই সহযোগিতা করছে। বিশেষ করে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষক, অভিভাবক, এসএমসি, মাদার ক্লাব সদস্যরা। সকল মহলের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বাঁচতে শেখার মাধ্যমে ত্রিশালের পুষ্টিহীন শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, শিক্ষার হার বাড়বে এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশিল সমাজ, সকলেই বাঁচতে শেখার এই প্রকল্পটি চলমান রাখা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে যেন এই প্রকল্পটি চালু হয় এই ব্যাপারে সুপারিশ করেন।