অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হল সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আর একটি দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন করা বা অর্থনীতিকে সচল রাখা সে দেশের সরকার ও প্রতিটি নাগরিকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু সুবিধাবাদী ও স্বার্থবাদী রাজনীতিবিদদের মোহে পড়ে এদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আসছে না। তাই এ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা উচিত। আর এটা একমাত্র সম্ভব সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে। তাই সরকারের উচিত সময় নষ্ট না করে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
মো. আবুল বাশার সালেহ
নটর ডেম কলেজ, মানবিক বিভাগ, ঢাকা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান কারণ
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল। আর এই অস্থিতিশীলতার কারণেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটময়। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সুস্থ রাজনীতি, দক্ষ শাসন ও নেতৃত্ব, কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে আজ এর বিপরীত। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতার আসনটাকেই মহত্ বিষয় মনে করে। তারা দেশ জাতি ও দেশের নিম্নস্তরের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করে না। অথচ নেতারাই হল জাতির পথপ্রদর্শক। বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদ যেখানে প্রতি বছর বাজেট নির্ধারণ করা হয়, আজ সেখানে বাজেটের বিষয় আলোচনা না করে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল পরস্পরে কটূক্তিতে মেতে উঠেছে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, তারা নিজেদের স্বার্থ ও দলের স্বার্থ নিয়েই পাগলপাড়ায় অবস্থান করছে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একবার ক্ষমতায় গেলে তারা আর ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না। তারা ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ করতে চায়। অথচ ক্ষমতার একচেটিয়াকরণ দেশের রাজনৈতিক অবস্থাকে বিশৃঙ্খলায় পরিণত করে। দেশের ক্ষমতাসীন দল শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বিরোধী দল প্রতিনিয়ত জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল, অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দেশের অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। কাজেই ক্ষমতাসীন দলের উচিত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তবেই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল হবে। আর রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ রাজনীতি প্রণয়ন করা। যার ফলে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।
মো. নূরনবী আকন্দ
শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগ
সরকারী তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
সমঝোতায় এক হোন
তাহলেই হবে দেশের উন্নয়ন
বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। কিন্তু দেখা যায় যে, বড় দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবটা সবচেয়ে বেশি, যদিও এ দুটি দল জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। তথাপিও সব গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের দলের নেতারা আসীন থাকেন। তাই এই দুটি দলকেই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এমন একটি সমঝোতা নীতি গ্রহণ করতে হবে যা থেকে সমস্যার সমাধান সম্ভব। যে ব্যবস্থা সংবিধান সম্মত গণতান্ত্রিক এবং জনমতের ঐক্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। যে সমঝোতায় থাকবে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বতন্ত্র নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা। যদি সমঝোতার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তাহলেই দেশকে সোনার গৌরব ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব।
শীতল চন্দ্র বর্মন
প্রথম বর্ষ (অনার্স) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
কারমাইকেল কলেজ, রংপুর
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আসার একটাই উপায় তা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আর গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ তাদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। আমাদের দেশে দেখি ঠিক তার উল্টোটা। এখানে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের শাসক নির্বাচন করে। বর্তমান সরকার জনগণের প্রতি খুবই আস্থাশীল। জনগণ তাদের আবার জয়যুক্ত করবেন। তবে কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে তাদের এত ভয়। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, অন্যান্য দেশের মত সরকারি দলের অধীনে নির্বাচন করবেন। কিন্তু তিনি কখনো দেখাতে পারবেন না, সেই দেশগুলোতে নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোটচুরি, ব্যালটবাক্স ডাকাতি হয়। অর্থাত্ তিনি নির্বাচনে জয়ী না হওয়ার ভয়েই এটা করছেন। আর বিরোধী দল এর বিরোধিতায় শুধু করছেন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে আসার প্রতি তাই একটাই উপায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আমরা তাইই চাই।
এম এ এস সাগর
নটরডেম কলেজ, ঢাকা
