হঠাত্ করেই পাল্টে গেছে রাজধানীর সবজি বাজারের চিত্র। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে বিভিন্ন সবজির দাম ছিল স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। এখন সেই সবজির দাম কোন কোনটি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। কমেছে কাঁচামরিচের ‘ঝালও’। তবে ঝাঁজ কমেনি পিঁয়াজের। প্রতি কেজি দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও মহাখালী বাজারে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে সবজির বাজারের এই চিত্র পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টানা ৪ দিনের হরতালের কারণে বাজারে সবজি আমদানি প্রায় বন্ধই ছিল। এখন হঠাত্ করে সবজির আমদানি বেড়ে গেছে, দাম কমেছে। এছাড়া বৃষ্টিও দাম কমার আরেক কারণ।
গতকাল রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার কাওরানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রচুর সবজির আমদানি। আড়তদারদের দোকানে দোকানে সবজির স্তূপ। কিন্তু সরবরাহ অনুপাতে ক্রেতা নেই।
আড়তদার আমজাদ জানান, চার দিন হরতালের পর বাজারে একসাথে প্রচুর সবজির আমদানি হয়েছে। তাই দাম কমেছে। তবে সরবরাহ কমলে দাম একটু বাড়তে পারে। আবার নাও বাড়তে পারে। কেননা, রমজানের শুরুর তুলনায় এখন সবজির চাহিদা কমেছে।
এই বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা মোক্তার বলেন, কম দামে বিক্রি করেও সবজির ক্রেতা পাচ্ছেন না। গতকাল বাজারভেদে প্রতি কেজি করল্লা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শশা ২০ থেকে ২৫ টাকা, আলু ১৫ থেকে ১৬ টাকা, ঝিঙা, কচুরলতি, কাঁকরল, কচু মুখি ও বরবটি ২০ থেকে ২৫ টাকা, ঢেঁড়স ও পটল ১৫ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
কিন্তু এক সপ্তাহ আগে করল্লা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও বরবটি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
কমেছে টমেটোর দামও। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। এছাড়া রমজানের শুরুতে যে বেগুনের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা ছুঁয়েছিল তা নেমে এসেছে ৪০ টাকায়। কমেছে কাঁচামরিচের ঝালও। আড়াই’শ টাকা কেজির কাঁচামরিচ এখন পাওয়া যাচ্ছে বাজারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
কাওরানবাজারের আড়তদার জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, কাঁচামরিচ রফতানী বন্ধের প্রভাব পড়েছে বাজারে। আমদানি বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কমতির দিকে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে দাম কমেনি পিঁয়াজের। প্রতি কেজি দেশি পিঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে চিনি, ছোলা ও ভোজ্যতেলের দাম কমতির দিকে। গতকাল বাজারে সয়াবিন ৫ লিটারের বোতল ৬৩৫ থেকে ৬৫০ টাকা, ১ লিটারের বোতল ১২৮ থেকে ১৩০ টাকা, ছোলার কেজি মানভেদে ৫৮ থেকে ৬৩ টাকা ও চিনি ৪৫ থেকে ৪৭ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু তিন/চার দিন আগেও সয়াবিন ৫ লিটারের বোতল ৬৪০ থেকে ৬৫০ টাকা, ১ লিটারের বোতল ১৩০ থেকে ১৩১ টাকা, ছোলা মানভেদে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা ও চিনি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকার নীচে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে মহাখালীবাজারে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ বলেন, রমজানের শুরুতে নিত্যপণ্যের দামে যে ‘গরমভাব’ ছিল। তা এখন নেই। নতুন করে কোন পণ্যের দাম বাড়েনি বলেও তিনি জানান।
