ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২২:৪১
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুইপাশে মির্জাপুর উপজেলায় নির্বিচারে চলছে বৃক্ষ নিধন। রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি গাছ বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ টাকায়। সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি ও পুষ্টকামুরি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের দুইপাশে সবুজ ঘেরা বিশাল বৃক্ষ নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ টাঙ্গাইল বন বিভাগ ও মির্জাপুর উপজেলা বন বিভাগের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি দলের নেতাদের নামে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের সরকারি বৃক্ষ নামমাত্র মূল্যে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। দুই বিভাগের কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুইপাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি ও পুষ্টকামুরি এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল। গাছের মধ্যে রয়েছে রেন্ডিকড়ি, আকাশমনি, মেহগনি ও শিশুগাছসহ কয়েক প্রজাতির গাছ। কোন কোন গাছের বয়স ২০/৩০ বছর হয়েছে যা দেখতে বিশাল আকার ধারণ করেছে। রাস্তার পাশে বিশাল বিশাল গাছের ছায়ায় পুরো এলাকার পরিবেশ ভিন্ন আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী এলাকার লোকজন এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এই বৃক্ষের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়ে আসছে। গত বুধবার থেকে হঠাত্ করে বাইমহাটি ও পুষ্টকামুরি এলাকায় ঠিকাদারদের লোকজনকে গাছ কাটতে দেখা গেলে লোকজনের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ গাছ কাটতে বাধা দিতে চাইলে ঠিকাদারের লোকজন জানিয়ে দেন গাছ বিক্রি হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো. রিপন মিয়া বলেন, আমি গত ১৫ মে জেলা বন বিভাগ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি ও পুষ্টকামুরি এলাকায় দুটি লটের ২৩১টি গাছ ৫ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছি। জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অসিত রঞ্জন পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমির ওপর বন বিভাগ বৃক্ষ রোপণ করেছিল। সেই বৃক্ষ ১২টি লটে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। সচেতন মহল পরিবেশ সুরক্ষায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুইপাশের বৃক্ষ নিধন বন্ধের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে।