আসন্ন ঈদুল ফিতর ও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশে জিরা মসল্লা ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ব্যাপক হারে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় জিরা, মসল্লা, ফেন্সিডিল, হুইস্কি, ইমিটেশন সামগ্রী, কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য। সীমান্ত সংলগ্ন বাসা-বাড়িতে গড়ে তোলা হচ্ছে আগাম মজুদ। ভারতীয় জিরায় সয়লাব হয়ে গেছে হাকিমপুর হিলিসহ উত্তরবঙ্গের হাটবাজার।
আসন্ন ঈদুল ফিতর ও সনাতনি ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশে জিরা মসল্লার দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে অনুত্পাদিত এই মসল্লার চাহিদা মেটাতে বর্তমানে হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ও রাতে প্রহরারত বিজিবির সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে, আবার কখনো কখনো ম্যানেজ করে লাইনম্যান নামক চাঁদাবাজদের যোগসাজশে ভারত থেকে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে পাচার হয়ে আসছে ভারতীয় জিরা। এই জিরা কিনতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাকিমপুর ও পাঁচবিবি সীমান্ত হাটে আসছে শত শত হতদরিদ্র শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। পাঁচবিবি রেলস্টেশনে কয়েকজন জিরা চোরাকারবারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ভারতীয় জিরা রয়েছে বিভিন্ন মানের ও বিভিন্ন কোম্পানির। রাণী, শুনতারা কেএস, স্টারসহ বিভিন্ন নামের। এসব জিরার প্রতি কেজি প্যাকেট ভারতে কিনতে পড়ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। লাইনম্যানদের চাঁদা দিয়ে সর্বসাকুল্য প্রতি প্যাকেট জিরা ক্রয় পড়ছে ২শ’ টাকা। দেশে তা বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত। এই জিরা পাচারের অতি মুনাফা লাভের আশায় উপজেলার কিছু বেকার যুবককে জিরা চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়তে লক্ষ্য করা যায়। বেকার যুবকরা একজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে সীমান্ত এলাকায় যায় এবং জিরা কিনে বস্তায় ভরে পাঁচবিবি বাজারে নিয়ে এসে বিক্রি করে বিকল্প আয়ের উেস নিয়োজিত রয়েছে। এ রকম শত শত বেকার যুবক, যুবতী ও মধ্যবয়সী পুরুষ-মহিলারা এখন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে এই চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
দিনাজপুর জেলার হিলি-হাকিমপুরসহ জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি, কয়া, কড়িয়া, হাটগোলা, উচনা, ঘোলাপাড়া, কালিতলা, নন্দইল, রামভন্দ পুর, চেঁচড়া, উত্তর গোপালপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে ব্যাপক হারে পাচার করে নিয়ে আসছে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে আগাম মজুদ গড়ে তুলছে।
জয়পুরহাট-৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল সাব্বির আলী খোসরু বলেন, হিন্দু ও মুসলিম সমপ্রদায়ের ২টি পাশাপাশি ধর্মীয় উত্সবকে সামনে রেখে বর্তমানে সীমান্তে চোরাচালান কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।
