বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৬
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করিয়াছে। ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত খবরে বলা হইয়াছে যে, রমজান মাসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিশুদ্ধ পানির সংকটে নগরবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাইতেছেন। মসজিদে মুসল্লিরা ওজু করার পানি পর্যন্ত পাইতেছেন না। যে সব এলাকা উঁচু, সেখানে এই সংকট আরও বেশি। চট্টগ্রাম শহরে এমনিতেই সারা বত্সর পানি সংকট লাগিয়া থাকে। তাহার উপর এবার রোজা-রমজানের মাসে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাটতির পরিমাণও বাড়িয়া গিয়াছে। ভুক্তভোগীরা বলিতেছেন, রমজান মাসে পানি বিতরণের নূতন সিডিউল নির্ধারণ করা হইয়াছে। ইহা জনস্বার্থে করা হইলেও শেষপর্যন্ত ইহা অধিক দুর্ভোগের কারণ হইয়া উঠিয়াছে। ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় পানির জন্য তাহাদের এখন হাহাকার করিতে হইতেছে। প্রকৃতপক্ষে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। পানি নিয়া চট্টগ্রামে কারবালার ন্যায় হাহাকার পড়িয়া যাওয়ার ইহাই মূল কারণ। জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর পানির চাহিদা দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি লিটার। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও ৯৪টি গভীর নলকূপ হইতে দৈনিক ২০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করিতেছে। পানি সরবরাহে এই অপ্রতুলতার কারণে এলাকাভেদে সপ্তাহে একদিন হইতে ৫দিন পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিতে পানি সরবরাহ করা হইতেছে। গত চার-পাঁচ বত্সর ধরিয়া এই প্রক্রিয়াই চলিয়া আসিতেছে। এমতাবস্থায় পানির সরবরাহ বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত এই সমস্যার কোন কুলকিনারা হইবে না। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ বাড়াইতে হইলে নূতন নূতন পানি শোধনাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাহাছাড়া জরাজীর্ণ নলকূপগুলিরও সংস্কার করা জরুরি। এখানকার অধিকাংশ নলকূপের জীর্ণদশার কারণে পানির উত্পাদন কমিয়া যাইতেছে। তাই পাম্পগুলির যান্ত্রিক ত্রুটি আগে দূর করিতে হইবে। যদিও লোডশেডিংয়ের হাত হইতে রক্ষায় বিদ্যুতের এক্সপ্রেস লাইন ও ডিজেলচালিত জেনারেটর স্থাপনসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইয়াছে, তথাপি ইহা যথেষ্ট নহে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও তাহার সঠিক বাস্তবায়ন আবশ্যক। বাংলাদেশে নগরায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হইতেছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী নাগরিকদের প্রতিদিনকার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নাই। নগরগুলিও সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারিত হইতেছে। ফলে একের পর এক সমস্যা দেখা যাইতেছে। রাজধানী ঢাকার উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায়ও বর্তমানে পানি সংকট চলিতেছে। সংকট আছে রাজশাহী মহানগরীতেও। আবার শুধু শহর-নগরেই নয়, এই সংকট আছে গ্রামাঞ্চলেও। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকার মানুষ আর্সেনিক, মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা, দূষণ প্রভৃতি কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকটে নিপতিত। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে সারা দুনিয়ায় ১২০ কোটি মানুষ সুপেয় পানির প্রাপ্যতা হইতে বঞ্চিত। তাহাদের অধিকাংশই এশিয়ার নাগরিক। ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১৮০ কোটিতে উপনীত হইবে। সুতরাং আমাদের এখনই সতর্ক হইতে হইবে। পানিই প্রাণশক্তির প্রধান উত্স। তাই পানি সম্পদের সদ্ব্যবহারের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধন করিতে হইবে। ইহার মধ্যে আছে নদ-নদীর পানির নায্য হিস্যা প্রাপ্তি, বৃষ্টি ও বন্যার পানি সংরক্ষণ, পানির অপচয় ও দূষণ রোধ ইত্যাদি। আমরা আশা করি, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রামের পানি সংকট নিরসন ও সামগ্রিকভাবে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।