প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। আকাশচুম্বি জনপ্রিয় এই লেখক দুরারোগ্য ক্যান্সারের চিকিত্সা নিতে মার্কিন মুল্লুকে এসেছিলেন। দেশ থেকে দূরে থাকলেও প্রবাসীদের ভালবাসায় সিক্ত ছিলেন তিনি; কিন্তু গত বছরের ১৯ জুলাই প্রবাসীদের কাঁদিয়ে হুমায়ূন আহমেদ চলে যান না ফেরার দেশে। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেয়া হলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁথে আছে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে হাজারো স্মৃতি। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে এই গুণী লেখকের চলে যাওয়ার একবছর পূর্তিতে নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশন জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে আয়োজন করে স্মরণ সভার।
স্মরণ সভায় একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়। তিনি বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সৃষ্টি করে গেছেন। শরত্ চন্দ্র যেমন তার লেখার মাধ্যমে পাঠক ধরে রাখতেন, হুমায়ূন আহমেদও অল্প সময়ে পাঠককে কাছে টেনেছেন। জামাল উদ্দিন হোসেন আরো বলেন, একজন লেখকের উপর সৃষ্টিকর্তা যে দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন তা নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।
জামাল উদ্দিন হোসেন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস পড়তে গেলে শেষ না করে ওঠা যায় না। তার গল্প-উপন্যাসে সেই চুম্বক শক্তি রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের হিমু অসাধারণ এক চরিত্র। সহজ ভাবনায় গভীর কথা বলেছেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদকে টিভি নাটকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখ করে জামাল উদ্দিন হোসেন বলেন, অনেককেই সব্যসাচি লেখক বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে হুমায়ূন আহমেদই সব্যসাচি লেখক ছিলেন। তিনি ছিলেন উঁচুমানের শিল্পস্রষ্টা।
হুমায়ূন আহমেদের শেষদিনগুলো নিয়ে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন যে বই প্রকাশ করেছে তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামাল উদ্দিন হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে বিবৃতি এসেছে। শুনেছি মামলাও হবে; কিন্তু এর মূল কারণ বাণিজ্য। বাংলাদেশে সবকিছু নিয়ে আজ বাণিজ্য হচ্ছে। তিনি হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বাণিজ্য বাদ দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য দেন নিউজার্সির প্লেইন্সবরোর কাউন্সিলম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক ড. নূরননবী, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম, সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেত্রী নাসিমুন নাহার নিনি ওয়াহেদ, নারী নেত্রী সেলিনা, অধ্যাপক হুসনে আরা বেগম, প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাহার, সংগঠক ফাহিম রেজানূর, স্থপতি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সাপ্তাহিক বাংলাপত্রিকা সম্পাদক আবু তাহের, এনটিভি ইউএসএ-এর বার্তা প্রধান তাওহীদুল ইসলাম, ইটিভি ইউএসএ-এর রিজিওনাল চিফ রিপোর্টার সাখাওয়াত হোসেন সেলিম প্রমুখ।
স্মরণ সভায় ‘চাঁদনী পসর রাত’ গান গেয়ে শোনান শিল্পী রেজাউল করিম। এছাড়া আবৃত্তি শোনান ফারুক ফয়সাল, আবীর আলমগীর, সাবিনা হাই উর্বি প্রমুখ। ছোট্ট শিশু আশরাফ তাসিন হুমায়ূন আহমেদের লেখা কবিতা ‘অশ্রু’ আবৃত্তি করে শোনায়।
স্মরণ সভার শুরুতে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
