যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করতে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহাজোট সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রায় হয়েছে। রায় শুনে শহীদদের স্বজনরা স্বস্তি পাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলংকমুক্ত হতে চলেছে। যুদ্ধাপরাধীদের এসব রায় কার্যকর করতে আবারো নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আর তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে নিজামী-মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি-জামায়াত দেশে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবং হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তিনি গতকাল শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বন্দরনগরী আশুগঞ্জে ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দে র উদ্বোধন এবং ১৩০১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সমপন্ন ৫টি বিদ্যুত্ কেন্দে র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকার দেশবাসীকে বিদ্যুতের খাম্বা উপহার দিলেও বিদ্যুত্ দিতে পারেনি। বিএনপি সরকারের দুর্নীতির জন্যই দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন কমে গিয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে থাকলে বিদ্যুত্ উত্পাদন কমে আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ে। বর্তমান সরকারের আমলে ৩২ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়েছে। দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধার আওতায় এসেছে। বর্তমান সরকারের সাড়ে ৪ বছরে বিদ্যুতের উত্পাদন ৮ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করেছি। তিনি আরো বলেন, দেশে আরো ৩৪টি বিদ্যুত্ কেন্দ নির্মাণাধীন আছে। এগুলো থেকে আরো ৬ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হবে। ৩ হাজার ৯৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আরো ১৯টি বিদ্যুত্ কেন্দে র টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ২ হাজার মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রামপালে ১৩০০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভারত থেকে খুব তাড়াতাড়ি ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানী করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম চালু করা হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত, দুর্গম ও পাহাড়ী অঞ্চলে প্রায় ১শ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুত্ উত্পাদন করে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দেশকে জঙ্গী ও সন্ত্রাসমুক্ত করেছি। দুর্নীতি দূর করেছি। আপনাদের সাহায্য ও সমর্থন পেলে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে বিদ্যুতের উত্পাদন বাড়িয়ে ২৪ হাজার মেগাওয়াট করবো। প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম প্রসঙ্গে বলেন, হেফাজত ইসলামের কথা বলে মসজিদে আগুন দিয়েছে, কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে। ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডব ছিল নজিরবিহীন। অথচ তারা মিথ্যাচার করে বলছে, শাপলা চত্বরে আড়াইহাজার লোক হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড এর কম্পাউন্ডে কোম্পানীর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্ বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক এমপি, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ.বি তাজুল ইসলাম এমপি, অ্যাডভোকেট সায়েদুল হক এমপি, র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম এনডিসি।