কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে নগরায়ণে বড় বাধা সেতুর টোল!

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ২২:০৩

চট্টগ্রাম অফিস

শাহ আমানত সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারে উচ্চ হারে টোল আদায়ের কারণে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে নগরায়ন হচ্ছে না। জানা গেছে, একটি প্রাইভেটকার সেতু পার হতে আসা-যাওয়া বাবদ আগে ৪০ টাকা লাগলেও বর্তমানে লাগে ৭৫ টাকা। প্রাইভেট কারে করে যারা নিয়মিত সেতু পারাপার হন তাদেরকে টোল বাবদ প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা গুণতে হয়। তাই টোল আতঙ্কে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে নিজের জায়গাজমি থাকা সত্ত্বেও অনেকেই সেখানে বাসাবাড়ি করে থাকার সাহস পাচ্ছেন না। চট্টগ্রাম মূল শহরের তীব্র আবাসন সংকট নিরসনে কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে দুই যুগ আগে সিডিএর উদ্যোগে ৫১৯টি প্লট সম্বলিত কর্ণফুলী আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। কিন্তু ওয়াসার পানি সরবরাহ না থাকায় এবং শাহ আমানত সেতুতে উচ্চহারে টোলের কারণে ওই আবাসিক প্রকল্পে আজ অবধি কেউ বাড়ি নির্মাণ করেনি। এছাড়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্ণফুলী থানার অবস্থান। এ কারণে একই শহরের মধ্যে নদী পারাপারে টোলপ্রথা থাকা অযৌক্তিক বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তারা চট্টগ্রাম শহরের তীব্র আবাসন সংকট নিরসনে নদীর দক্ষিণ তীরে দ্রুত নগরায়নের লক্ষ্যে টোলপ্রথা তুলে দেওয়ার দাবি জানান। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পদ্মা বা যমুনা সেতুর মত সারাদেশ থেকে সারচার্জ আদায় অথবা দেশি-বিদেশি কোম্পানির অর্থায়নে বিল্ড অ্যান্ড অপারেট ভিত্তিতে সেতু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

জানা গেছে, জনবসতির ক্রমবর্ধমান চাপের সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে আবাসন সংকট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। তাছাড়া পানি, বিদ্যুত্, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি প্রচণ্ড যানজটে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাড়তি জনসংখ্যার চাপ মোকাবিলা করার মত স্থান চট্টগ্রাম নগরীতে আর নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে মহানগরীর তীব্র আবাসন সংকট নিরসনে কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ই এখন একমাত্র ভরসা। কেননা পরিকল্পিতভাবে শহর বাড়ানোর জন্য অন্যদিকে তেমন জায়গা আর নেই।

টোলপ্রথা বাতিলের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইজারাদাররা দফায় দফায় টোলের পরিমাণ বাড়িয়ে জনসাধারণের নাভিশ্বাস তুলেছে। সরকারের কাছে এ ব্যাপারে বহু আবেদন নিবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি। নগর সমপ্রসারণের স্বার্থে শাহ আমানত সেতুতে টোলপ্রথা অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।

দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান জানান, শিকলবাহার বাসিন্দা হয়েও সেতুর অযৌক্তিক টোলের জন্য নিজ বাড়িতে বসবাস করার সাহস পাচ্ছি না। শিকলবাহায় বসবাস করলে আমার অফিস, ছেলেমেয়ের স্কুল, বাজার-সদাইসহ নানা কারণে দৈনিক অন্তত চারবার আমার গাড়ি চট্টগ্রাম শহরে আসা-যাওয়া করতে হবে। এভাবে মাসে একটি বড় অঙ্কের টাকা গচ্চা দিতে হবে। এসব চিন্তা করে নিজ এলাকায় বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, শাহ আমানত সেতু পারাপারে উচ্চহারে টোল আদায় বেআইনি, অনৈতিক, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এটা অনেকটা চাঁদাবাজির নামান্তর। জাতীয় স্বার্থে তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। কোনো নদীর দুপাড়ে শহর, উপ-শহর থাকলে তা পারাপারে টোল আদায়ের ঘটনা নজিরবিহীন, বেআইনি ও জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি নগর সম্প্রসারণে প্রধান বাধা। জনসাধারণের নির্বিঘ্নে পথ চলাচলের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। এই বাধা অপসারণে মহামান্য উচ্চ আদালতে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করার কথা ভাবা হচ্ছে।