জিংকি আর্ট তার পারিবারিক ব্যবসা। ফটোগ্রাফার জিংকি নিজের নামে প্রতিষ্ঠানটির নাম দিয়েছিলেন ২০০৩ সালে। প্রথমে বন্ধুরা মিলে শুরু করেছিলেন এই আর্ট ফটোগ্রাফি। আর আজ সে উদ্যোগ অনেক বড় একটি পরিবার তৈরি করে নিয়েছে। তরুণ আর্ট ফটোগ্রাফার জিংকির কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি অন্যসব ছেলেমেয়েদের থেকে অনেকটা আগেই। আর সেসময় থেকেই তিনি ভাবতেন, পরিবেশ বিদ্যার উপর ডিগ্রি নেবেন। কিন্তু মায়ের সাথে ফটোগ্রাফি নিয়ে জড়িয়ে গিয়ে তিনি অনুধাবন করেন, এই পেশাটিই তাকে টানে বেশি। ব্যস শুরু হয়ে গেল তার আর্ট ও ফটোগ্রাফির পথে যাত্রা। তবে শুরুতে আর্ট ফটোগ্রাফির পথে চলাটা মোটেও সহজ ছিল না তার জন্য। অনেক পরিশ্রম করে ধীরে ধীরে প্রতিবন্ধকতাগুলো একটা একটা করে পেরিয়ে এসেছেন তিনি। ফটোগ্রাফি পেশা হিসেবে নেওয়াতে তার পরিবারের জন্য আর্থিকভাবে অনেক সুবিধা হয়। পাশাপাশি মেয়ের ক্রিয়েটিভিটিতে মুগ্ধ ছিলেন তারা। তবে ফটোগ্রাফি পেশাটি শুরুর সময়ে তিনি শুধু বাচ্চাদের ছবি বেশি তুলতেন। এই কাজেই তিনি বেশ আনন্দ পেতেন। তিনি ট্যাফেতে পড়াশোনা করেছিলেন এবং সেখানেই চাইল্ড কেয়ার প্রফেশনাল হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি ফটোগ্রাফি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার কাজগুলো বদলে যায়। তিনি অন্যসব চিন্তা বাদ দিয়ে ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকেই তার ক্যারিয়ারের ব্রেক হিসেবে বেছে নেন। ছোটবেলা থেকেই অফিসে বসে নিয়মমাফিক রুটিনে কাজ করার ব্যাপারটা অপছন্দ ছিল তার। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কখনও কোনো অফিসে কেরানির মতো কাজ করবেন না। ব্যবসা করাটা তার কাছে অনেক সহজ মনে হতো। আর সেই ইচ্ছে থেকেই তার এতদূর আসা। বর্তমানে তিনি একটি ওয়েডিং ফার্মের মালিক। মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজস্ব ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকাল অনেকের হাতেই দেখা যায় এসএলআর ক্যামেরা। সেই সাথে ফটো তোলার প্রতিযোগিতা। অনেকেই ব্যাপারটার সাথে পরিচিত হয়ে গেছেন। এখন কেউ আর অবাক হয়ে চেয়ে থাকে না যে অদ্ভুত দর্শন ক্যামেরা টাইপের জিনিসটা নিয়ে মানুষগুলো কী করছে। ১৪-১৫ বছরের কিশোর-কিশোরীদের হাতে ক্যামেরা দেখলে, তাদের ছবি তুলতে দেখলে এখন আর কেউ অবাক হয় না। কিন্তু একটু হলেও সবাই অবাক হবে শুনলে যে, এমনই ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রফেশনালদের মতো কাজ করছে। তাও শখের বশে না, পেশা হিসেবে। এত ছোট্ট বয়স থেকেই তিনি ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ অর্থাত্, বিয়েতে ছবি তোলার কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনি কাজটা করতেন বিনামূল্যেই। এরপর ধীরে ধীরে তিনি তার এই কাজকে টাকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। মায়ের কাছ থেকেই প্রথম ফটোগ্রাফি বিষয়টা তার সামনে আসে। তার মা ছিলেন পেশাগত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। প্রথমে তিনি তার মাকে সাহায্য কারার জন্য কাজটা করতেন। এভাবে চলতে চলতে প্রায় ২ বছরের মধ্যে তিনি এই পেশার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। অবশ্য, বিয়ে সাজানো থেকে শুরু করে ছবি তোলার কাজ তিনি একাই করতেন। আসলে তিনি এই পেশাটাকে খুব বেশি পছন্দ করতেন। আর সেই আনন্দ থেকেই মূলত তার এই পথে আসা এবং পথ চলা। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ফটোগ্রাফি শুরু করি আমার মায়ের কারণে। তিনি পেশাগত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার ছিলেন। সেই থেকেই আমারও এর মধ্যে জড়িয়ে যাওয়া।’ ২০০৮ সালের ভেতর তার সংগ্রহে যে পরিমাণ ছবি জমা হয়, তাতে খুব সহজেই বলা যায়, তিনি ফটোগ্রাফিতে প্রাইমারি অংশটা পার করে ফেলেছেন। এর ঠিক এক বছরের মধ্যে, ২০০৯ সালে, তার কাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫-এ। অর্থাত্, প্রায় ২৫টির মতো ওয়েডিংয়ে তিনি কাজ করেছেন। এ ছাড়াও স্টুডিওর সাথে মিলে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪০টির মতো বর ও কনের পোর্ট্রেট ছবিও তোলার কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি আর্ট ফটোগ্রাফি ব্যবসাতে ভালোই নাম করেছেন। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন তার এ ব্যবসাকে আরও উপরে নিয়ে যেতে। এক কথায় তার ইচ্ছা, তার এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ফটোগ্রাফির জগতে ভালো নাম কামাবেন। এই ভাবনা থেকে এক সময় খুলে ফেলেন একটি ওয়েব সাইট। নাম দেন, জিংকি আর্ট। অনলাইন প্লাটফর্মে এমন সাইটের সংখ্যা খুব একটা ছিল না। তাই তার সাইটটি বেশ দ্রুতই নাম করে ফেলে। এই সাইটটি তিনি গ্রীষ্মকালে শুরু করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ফটোগ্রাফির প্রয়োজনে তার সময়ের আগেই শুরু করতে হয়। ততদিনে তার বয়স প্রায় বিশের কোঠায় পৌঁছে গেছে। তিনি তখন জুনিয়র স্কুলের বিজনেস সেকশনে পড়াশোনা করে, ইউনির্ভাসিটি অব সাউদার্ন মাইন থেকে ডিগ্রি নেন। মাঝে তিনি একবার অনেক ঝামেলায় পড়েছিলেন তার ব্যবসা নিয়ে। যোগাযোগ সমস্যা। আর এ সমস্যা সমাধানে তার সাইটটি অনেক কাজে আসে।
জিংকির পড়াশোনা নিয়ে কিছু তথ্য :প্রথমে তিনি বিজনেস সেকশন থেকে পাস করেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি থেকে ডিগ্রি নেন।
