কৃষিই আমাদের কৃষ্টি। কৃষিকে ঘিরেই মানব সভ্যতার পাঠ শুরু হয়েছে। মানব জীবনের অস্থিত্বকে অর্থবহ করতে কৃষি আজ অবধি আমাদের প্রধান অবলম্বন। তাই আমাদের আবহমান সংস্কৃতির প্রধান পরিচয়ও কৃষি।
বাংলাদেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা কৃষিকেন্দ্রিক। দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির মাঝেই নিহিত রয়েছে গোটা জাতির অর্থনৈতিক বিপ্লব ও প্রাণশক্তি। বাংলাদেশের কৃষি সংস্কৃতিতে বারবার আধুনিকতার ছোঁয়া দেশকে একটা শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে জন্ম নিয়েছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহত্ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টি এ বছরের ১৮ আগস্ট তার গৌররোজ্জ্বল ৫২ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে। জাতির গভীরতম প্রত্যাশা পূরণে দারিদ্র্য দূরীকরণের অঙ্গীকার ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের প্রত্যয়ে এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ কৃষি সরবরাহের মাধ্যমে জাতির হূদয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ আপন মর্যাদায় আসীন।
বিগত অর্ধশতাধিক বছরের অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পদ্ধতি, উচ্চতর কৃষি গবেষণা, লাগসই কৃষি গবেষণা সবকিছু মিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে ‘দি সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ এ। ময়মনসিংহ শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম প্রান্তে চিরসবুজে ঘেরা গ্রামীণ পরিমন্ডলে ১২০০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে সবুজে-ঘেরা নয়নাভিরাম এ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাস। ১৯৫৯ সালে জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়।
