বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাসে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ থেকে বহির্বিশ্বের অনেক কিছু শেখার আছে। গত ৪০ বছর ধরে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ উত্তরোত্তর অগ্রগতি সাধন করেছে। গত সাড়ে চার বছরে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ৭৫ শতাংশ কমেছে।
গতকাল রবিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর অবসান: বাংলাদেশের অঙ্গীকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিনিই কাইমস, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ প্যাসকল ভিলনোভ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট চিফ নিরু সামসুননাহার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (পিএইচসি) ডা. সৈয়দ আবু জাফর মো. মুসা।
বক্তারা বলেন, মোট শিশুমৃত্যুর ৬০ শতাংশ ঘটে নবজাতকের মৃত্যুর কারণে। নবজাতক মৃত্যুর তিনটি প্রধান কারণ হচ্ছে, জন্মকালীন শ্বাসরুদ্ধতা, নবজাতকের সংক্রমণ ও অপরিণত শিশুর জটিলতা। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা এবং গর্ভবতী নারীদের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে পাঁচ বছরের কম বয়সী এক-তৃতীয়াংশ শিশু মৃত্যুর কারণ হলো নিউমোনিয়া, পানিতে ডোবা ও ডায়রিয়া। অপর্যাপ্ত পুষ্টি শিশুমৃত্যুর আরেকটি প্রধান কারণ, যা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৪১ শতাংশ অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে শিশুর আকৃতি খর্বাকৃতির হচ্ছে। মহিলা, নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের জন্য সমন্বিত পুষ্টি কর্মসূচির বিস্তার ঘটাতে বাংলাদেশ সফল হয়েছে। অনুষ্ঠানে ড্যান মজীনা মা ও শিশুমৃত্যু রোধে বাংলাদেশের সফল কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময়ী দেশ। এটি সামনে এগিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এদেশের উন্নয়নে পাশে আছে এবং থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর অবসান: বাংলাদেশের অঙ্গীকার ঘোষণা করেন। মন্ত্রী ৭ টি কর্মসূচি ও ৬ টি কর্মপন্থা উল্লেখ করেছেন।
