ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা
ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ হর্স পাওয়ারের সাব-মারসিবল পেডরোলা পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার টানা পাঁচদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আবাসিক ভবনগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীসহ আবাসিক ভবনে বসবাসকারীরা। সোমবার দুর্গন্ধ ও পানির অভাবে অনেক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে দেখা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামাল মিয়া শোভন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়ে। তাত্ক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রোগীদের চিকিত্সা দিতে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। খাবার ও টয়লেটে পানি ব্যবহারের জন্য রোগীরা নিচের নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। দুর্বিসহ গরম ও রমজানে পানি যে কত প্রয়োজন তা কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা মোবাইল ফোনেও জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা গেছে, ভর্তি রোগীরা ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এ সময় ভর্তি রোগী আলি মুনছুর শেখ, সেলিম শেখ, আব্দুস ছালাম মোল্যা, হাশেম আলী মোড়ল ও সুধান্য বৈরাগী জানান, নিচের নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে কোনোমতে বাথরুম ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাছাড়া দুর্গন্ধে ওয়ার্ডে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। মনে হয় হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগী হয়ে পড়েছে।
ডা. নিরঞ্জন ঘোষ তুহিন জানান, দুর্গন্ধে হাসপাতালে রোগী দেখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। গরমে ডায়রিয়া ও জ্বরের রোগীর চাপ রয়েছে। পানি ছাড়া চলা খুব কঠিন।
এদিকে খুলনা জেলা সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।
পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, বিষয়টি এইমাত্র জানতে পারলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শামসুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপসহকারী প্রকৌশলী আবু বাসেত বলেন, পাম্প মেশিনটি সোমবার সকালে মেকানিক দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে।
