গল্প নয় সত্যি

ঘুমের রহস্য ঠাণ্ডা বালিশে!

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২০:২২
রাতের পর রাত যারা একদণ্ডও শান্তি মতো ঘুমোতে পারেন না নির্ঘুম থাকার কষ্ট তাদের চাইতে আর কে-ই বা ভালো বুঝে। এমনকি অনিদ্রা রোগের কারণে নানা টোটকা বুদ্ধি থেকে শুরু করে ঘুমের ওষুধেরও দ্বারস্থ হতে হয় এদের কাউকে কাউকে। অথচ যে ঘুমের সন্ধানে তাদের এত কসরত আর ত্যাগ স্বীকার সেই ঘুম কি না লুকিয়ে আছে ঠাণ্ডা বালিশে! নাহ, কথাটা নেহাত মনগড়া বানোয়াট কোনো কথা নয়। বরং ঘুম নিয়ে গবেষণা করাই যাদের অন্যতম কাজ সেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত এডিনবার্গ স্লিপ সেন্টারের গবেষকরা এবার তাদের দীর্ঘ গবেষণার ফল হিসেবে জানিয়েছেন ঘুম আনবার অমোঘ এই দাওয়াইয়ের কথা। গবেষকরা তাদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে দেখেছেন যে, সাধারণত ঘুমের সময় মানুষের শরীর থেকে অধিক হারে তাপমাত্রা নিঃসৃত হয়। মূলত হাত ও পায়ের তালু এবং মুখমণ্ডল দিয়ে শরীরের ভেতরের এই তাপ বাইরে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এ সময় হাত-শরীর ও মুখমণ্ডলের সংস্পর্শে থাকা বালিশ বা আশপাশের পরিবেশ যদি ঠাণ্ডা না থাকে তাহলে শরীরের পক্ষেও দ্রুত তাপ হারানো কঠিন হয়ে পড়ে। আর এ প্রেক্ষাপটেই দারুণ কাজ করে ঠাণ্ডা বালিশের বিষয়টি। গবেষকরা বলছেন, ঠাণ্ডা বালিশ আমাদের মুখমণ্ডল ও ঘাড়ের অংশবিশেষ থেকে দ্রুত তাপ গ্রহণ করতে পারে বলে এই শীতলতা আরামদায়ক ঘুমের জন্য বেশ কাজে আসে। তবে এ জন্য তুলার বালিশ পানিতে ভেজানোর প্রয়োজন নেই, বরং ফ্রিজে কিংবা এসির বাতাসে রেখে এটিকে ঠাণ্ডা করা যেতে পারে। ঠিক একইভাবে শীতল পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য গবেষকরা সুতার তৈরি বিছানার চাদর এবং ফোম বা সিনথেটিকের তোষক ও ম্যাট্রেসের পরিবর্তে তুলার আচ্ছাদন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া আরামদায়ক ঘুমের জন্য দ্রুত শরীরের তাপ কমাতে সাহায্য করে এমন সিল্ক বা সুতির ঢিলেঢালা পোশাকও দারুণ কার্যকর বলে মত প্রকাশ করেছেন এডিনবার্গ স্লিপ সেন্টারের এই গবেষকরা।