ইরাকের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত আবু গারিব কারাগারে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। এছাড়া তাজি নামে আরো একটি কারাগারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। উভয় হামলায়ই রকেট চালিত গ্রেনেড ও মর্টার ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পর কারাগারে কয়েদিদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে রাজধানী বাগদাদের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, গুলি ও সহিংসতায় ৮৮ জন নিহত হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার পরপরই সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। সামরিক বিমান ও অন্যান্য সহায়তায় শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের পিছু হটতে বাধ্য করা হয়। আল জাজিরার সংবাদদাতা জেন আরাফ বাগদাদ থেকে জানান, আবু গারিব ও তাজি কারাগারে আল- কায়েদার বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের বন্দী রয়েছে। খুব সম্ভবত তাদের মুক্ত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। দুটি কারাগারেই হামলার পর কয়েদিদের মাঝে দাঙ্গা বেধে যায়। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিগত সময়েও জঙ্গি গ্রুপ আল-কায়েদা এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। আর তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে তাদের নেতাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া। এদিকে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, সহিংসতা ও গুলিতে ৮৮ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রবিবার সহিংসতায় ১৮ জন মারা গেছে। বাকিরা শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় নিহত হয়েছে।
এএফপি জানায়, বাগদাদ প্রদেশে শনিবার রাতে উপর্যুপরি বোমা হামলায় ৭০ জন নিহত হয়েছে। ২০০৮ সালের পর এটি ইরাকে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা। এই নিয়ে চলতি মাসে ইরাকে সহিংসতায় ৫২০ জনের প্রাণহানি ঘটল। পুলিশের এক কর্নেল ও এক চিকিত্সা কর্মকর্তা বলেন, বাগদাদে ১২টি গাড়ি বোমা ও রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলীয় মাদাইনে অপর একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৯০ জন আহত হয়েছে। বাগদাদের বাসিন্দারা যখন ইফতারের পর কেনাকাটায় বের হয়েছিল এবং ক্যাফেগুলোতে বিশ্রাম নিচ্ছিল তখন এই বোমাগুলোর বিস্ফোরণ ঘটে।
