ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তারা হলেন- মানিক চাঁদ ওরফে রাজ, এস এম আলাউদ্দিন আল মাসুদ, ইসমাইল হোসেন, রতন হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও সম্রাট মল্লিক। রবিবার রাতে মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। র্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃতরা সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, কারারক্ষীসহ বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছে। গতকাল দুপুরে কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ২/৩ বছর ধরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। চক্রটি এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ জনের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদের দলনেতা মানিক। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়লেও নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রূপনগরে তার সুসজ্জিত একটি অফিস ছিল। সেখানে বসে সে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। দামি গাড়ি ভাড়া করে গ্রামে চলে যেত মানিকসহ চক্রের সদস্যরা। তারা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার বেকার চাকরিপ্রত্যাশী যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। এ সময় চক্রের সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করত। পরে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখাতো। এরপর চাকরি দেওয়ার জন্য কন্ট্রাক করত। অগ্রিম হিসেবে কন্ট্রাকের একটি অংশ নগদ নিত। বাকি টাকার জন্য ব্ল্যাংক চেক, স্ট্যাম্প, শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, এনআইডি গ্রহণ করত। এর কয়েকদিন পর নিয়োগপত্র দিত। এরপর যখন ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাংক চেক ব্যবহার করে আদালতে লাখ লাখ টাকার মামলা দিত। যাতে ভুক্তভোগীরা টাকা দাবি না করে এবং মামলা তুলে নেয়।
সিরাজগঞ্জের লিটন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, গ্রেফতার আলাউদ্দিন নিজেকে এসআই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার ভাতিজাকে পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু চাকরি না দিয়ে উল্টো আমার নামে আদালতে তিনটি মামলা করেছে। কুষ্টিয়ার রতন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির জন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকাসহ ৮টি চেক নিয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্ল্যাংক চেক ছিল। কিন্তু চাকরি না দিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে।
