রাজনীতিবিদদের নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন
বর্তমানে দেশের রাজনীতিবিদদের চারিত্র্যিক অবক্ষয় হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতির আজ এ বেহাল অবস্থা। তারা আজ মানুষের কল্যাণের কথা ভুলে গিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরকে কিভাবে খোটা দেয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত। যে জাতীয় সংসদ ছিল দেশের জনগণের ভাবার স্থান, তা পরিণত হয়েছে আজ বিতর্ক প্রতিযোগিতার গোলটেবিলে। সেখানে দেশের উন্নয়নের কথা না বলে দেশের দু’প্রধান রাজনৈতিক দল তাদের ব্যক্তিগত ইতিহাস নিয়ে টানাটানি করে। যার লেশমাত্র উপকারিতা একজন সাধারণ মানুষ পাই না। অথচ এই সংসদ চলছে সেই সাধারণ মানুষের অর্থে। এইতো হলো দেশের হালচাল। তবে কিভাবে হবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন? সকলের কাছে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে কি আমরা রাজনীতিবিদদের নিকট থেকে কোন কিছু আশা করতে পারি না? যে সকল রাজনীতিবিদ স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত টকশো করে থাকেন তারা তাদের মতামতগুলোকে বাস্তবে রূপ দিলেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কিন্তু তা আজ জনগণের সামনে লোক দেখানো টকশো হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। যার কোনো উপকার হয়েছে বলে মনে হয় না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর জন্য রাজনীতিবিদদের চারিত্র্যিক উন্নয়ন ঘটানো একান্ত প্রয়োজন। তবেই আমরা সুখী, সমৃদ্ধশালী ও উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পারব।
মো. রুকুনুজ্জামান (তাহমিদ)
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ২য় বর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
স্বার্থহীন রাজনীতিই
পারে অর্থনৈতিক
উন্নয়ন ঘটাতে
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চাই স্বার্থহীন রাজনীতি। আবার আমরা দেখেছি, যে দলই ক্ষমতার আসনে উপবিষ্ট হন, তারা যেন ক্ষমতাকে পৈতৃক সম্পদ মনে করেন। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য বিরোধী দলগুলোকে করে রাখেন কোণঠাসা। ক্ষমতাসীন দলটি ফের ক্ষমতা পাওয়ার জন্য হয়ে ওঠেন হায়েনার চেয়েও হিংস্র। করে থাকেন ক্ষমতার নানা অপব্যবহার। ক্ষমতার এই রোষানলে জনসাধারণ আজ অতিষ্ঠ, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি হুমকির সম্মুখীন। দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কার গলে বিজয়ের মালা ঝুলবে! তাই বলবো রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত স্বার্থান্বেষী রাজনীতি পরিহার করে সমঝোতায় এসে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর।
মো. মেহেদী হাসান
অনার্স ৪র্থ বর্ষ, গণিত বিভাগ
ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা
ক্ষমতা হস্তান্তর ঠিকভাবে না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কখনো ঘটবে না
স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের দেশে গতানুগতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি পরিপূর্ণভাবে। জনসমর্থন ছাড়া যেমন ক্ষমতায় আসা যায় না, ঠিক তেমনি বিজয়ী প্রার্থীকে যথাযথভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়—যা অর্থনৈতিক তথা জাতীয় উন্ন্য়নকে ত্বরান্বিত করে। আর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা না হলে দেশে সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক অরাজকতা। তাইতো বর্তমান সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে—এটা দেশের সকল নাগরিকের প্রত্যাশা।
শাহিদা আক্তার সাথী
এইচএসসি (১ম বর্ষ) মানবিক
নলছিটি ডিগ্রী কলেজ,
নলছিটি, ঝালকাঠী
সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চাই কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করতে পারে
দেশের স্বার্থে দু’দলকেই নমনীয় হতে হবে এবং আলাপচারিতার মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু সমাধান করতে হবে। ক্ষমতায় গিয়ে পূর্ব সরকারের নেয়া উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর দিকেও দৃষ্টিপাত করতে হবে। সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার রীতি চালু হলে অর্থনীতির চাকা বাধার সম্মুখীন হবে না। রাজনৈতিক হানাহানি আর হিংসার লড়াইয়ে একে অপরকে পরাভূত করে ক্ষমতায় যাবার লালসায় ব্যস্ত থাকেন। ক্ষমতায় গিয়ে আর ব্যস্ত থাকেন না দেশের উন্নয়নে, তখন ব্যস্ততা বেড়ে যায় আখের গোছাবার। অস্বীকার করার উপায় নেই দেশের যা কিছু উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তাদের হাত ধরেই, ভবিষ্যতেও যা হবে তাদের হাত ধরেই। আমরা সবসময় তাদের শ্রদ্ধা করি। রাজনীতি তো কখনো পেশা হতে পারে না, রাজনীতি মানে সদা জনগণের, দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা। ইচ্ছে শুধু জানবার, পেশার রাজনীতি ভুলে সেবার রাজনীতির দরজা কবে খুলবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে? আমাদের বোধোদয় আর কবে হবে ভেবে পাই না।
মো. জাহিদুল হাসান (রাশেদ)
শিক্ষার্থী,
ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ;
অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,বনানী, ঢাকা
