রামেক হাসপাতালের চারটি এক্সরে মেশিনের তিনটি দীর্ঘদিন নষ্ট

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৩
উত্তরাঞ্চলের চিকিত্সা সেবার সর্ববৃহত্ প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৪টি এক্সরে মেশিনের ৩টিই দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। ফলে জরুরি চিকিত্সার জন্য আগত রোগীদের এক্সরে করতে পাঠানো হচ্ছে ক্লিনিকে। সেখানে রোগীরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ রোগীদের টানাটানিতে অসুবিধা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩শ’ রোগীর বিভিন্ন ধরনের এক্সরে করার প্রয়োজন হয়। জরুরি চিকিত্সায় ব্যবহূত রামেক হাসপাতালের এক্সরে বিভাগের ৪টি মেশিনের মধ্যে ৩টিই নষ্ট পড়ে আছে। বাকী একটি এক্সরে মেশিনে শুধু হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি জরুরি রোগীর জন্য ব্যবহূত হচ্ছে। অন্যদের এক্সরে করার জন্য বাইরের ক্লিনিকে যাবার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রামেক হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য আসা নাটোরের দিনমজুর নুরুল ইসলাম বলেন, তার পা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিত্সক এক্সরে করাতে বলেন। এক্সরের স্লিপ নিয়ে এক্সরে বিভাগে গেলে তাকে হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি নষ্টের কথা বলে বাইরের ক্লিনিকে যেতে বলা হয়। নিরূপায় নুরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের একটি ক্লিনিকে যান। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার নিকট থেকে ৪৫০ টাকা বিল রাখে। অথচ হাসপাতালের মেশিন ভাল থাকলে একই এক্সরের জন্য তার ১২০ টাকা খরচ হতো। শুধু নুরুল ইসলাম নন, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এভাবে বাইরে থেকে এক্সরে করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। রামেক হাসপাতালের সরকারি এক্সরে মেশিন নষ্ট পড়ে থাকায় বাইরের ক্লিনিকগুলো তাদের নিকট থেকে ইচ্ছে মতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। রামেক হাসপাতালের এক্সরে বিভাগের ইনচার্জ আবদুস সবুর বলেন, মেশিন নষ্টের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বারবার জানানো হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, নষ্ট এক্সরে মেশিনগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামত কাজ শুরু হবে।