জিন প্রযুক্তির বিটি বেগুনের বীজ কৃষকের হাতে, উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৪
জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত বিটি (ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস) বেগুন চাষাবাদের জন্য কৃষক পর্যায়ে বীজ ছাড়ার খবরে যশোরে কৃষি ও পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যশোরসহ দেশের কয়েকটি আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে নতুন এই বেগুন উদ্ভাবনের গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। বিটি বেগুনের বীজ কৃষক পর্যায়ে ছাড়ার অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। যশোরস্থ আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশে ৯টি জনপ্রিয় বেগুনের জাতে ব্যাকটেরিয়ার বিটি জিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ৪টি জাতের মধ্যে যশোরের চ্যাগা ছাড়াও রয়েছে উত্তরা, রংপুরের কাজলা ও চট্টগ্রামের দোহাজারী জাতের বেগুন। বেগুনের প্রধান শত্রু গাছের ডগা ও ফল ছিদ্র করা পোকা। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ বেগুন নষ্ট হচ্ছে। এই ক্ষতি কমিয়ে আনতে বেগুনে বিটি ব্যাকটেরিয়ার জিন প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কৃষি ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন জাতের বিটি বেগুন বহুজাতিক বীজ কোম্পানি মনসান্টোর ইতিপূর্বে ভারত ও ফিলিপাইনে উদ্ভাবনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় সে দেশ তা করতে দেয়নি। সূত্রের দাবি, বিটি বেগুন মানবদেহে লিভারের জন্য ক্ষতিকর। তবে এ দাবিকে নাকচ করে যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শেখ মোস্তফা জামান ইত্তেফাককে বলেন, জিন প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত সয়াবিন তেল আমরা খেয়ে যাচ্ছি। ক্ষতি তো হচ্ছে না। তবে ভারতের পরিবেশবিদরা বিটি বেগুনের বিরুদ্ধাচারণ করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন বলে স্বীকার করেন। কৃষিবিদ ড. আব্দুল মোমেন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, যেকোন ধরনের জেনেটিক ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য খন্দকার আজিজুল হক মনি বলেন, কেমিক্যালের কারণে ফল খেতে যেখানে মানুষের সাহসে চিড় ধরেছে, সেখানে বিটি বেগুনের বিপক্ষে কৃষিবিজ্ঞানীদের মতামতকে মানুষ ও কৃষকের স্বার্থে সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। মানুষের জীবনবিধ্বংসী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে সরকারকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। বিটি বেগুনের গবেষণার সাথে যুক্ত যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তাই আমদের কথা বলা নিষেধ। তিনি বারি’র ডিজির সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি’র মহাপরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম মন্ডল মোবাইলে ইত্তেফাককে বলেন, আমেরিকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ল্যাবে বিটি বেগুনের গবেষণা করে ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি। যারা এসব কথা বলছে, তারা হাওয়ার ওপর বলছে। বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে বলে কীটনাশক কোম্পানি এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।