চালু হওয়ার এক মাসেই ঢাকা-বরিশাল বে-ক্রুজ বন্ধ

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৬
ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে চালু করার মাত্র এক মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে দ্রুতগামী আধুনিক যাত্রীবাহী নৌযান বে-ক্রুজ। বিআইডব্লিউটিসির রকেট স্টিমারগুলোও একে একে বিকল হয়ে পড়ছে। বেসরকারি কোম্পানির লঞ্চগুলো চলছে রোটেশন পদ্ধতিতে। ফলে আগামী ঈদে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে উঠার আশংকা করা হচ্ছে। মাত্র ৪ ঘন্টায় ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহনের অঙ্গীকার নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল চালু করা হয় বে-ক্রুজ। অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এ জাহাজটি কোরিয়া থেকে আমদানি করে ২০০২ সালে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চালু করে। মাত্র ৪ ঘন্টায় ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহন করে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই সার্ভিস। গত ২৮ এপ্রিল সার্ভিসটি চালুর পর থেকেই এটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দফায় দফায় বন্ধ হয়ে থাকে। সর্বশেষ ১১ জুন বি-ক্রুজ বিকল হয়ে ডকইয়ার্ডে যায়। অদ্যবধি সার্ভিসে ফিরে আসেনি। অথচ ২৫২ সিটের এই জাহাজটি প্রতিদিন দু’বেলা যাতায়াত করে প্রায় ৫শ’ যাত্রী পরিবহন করতো। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের যাত্রীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেললেও এখন কোন দিবা সার্ভিস নেই এ রুটে। জাহাজটি’র ঢাকা- বরিশাল উভয় প্রান্তের কাউন্টারে থাকা সেল ফোনের নম্বর এখন আর কেউ রিসিভ করছে না। বে-ক্রুজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মহসিন তালুকদার জানান, দ্রুতগামী এ জাহাজটি প্রতিদিন আসা-যাওয়ায় রাউন্ড ট্রিপ দিতে গিয়ে দু’টি ইঞ্জিনের একটি বিকল হয়ে গেছে। দুবাই থেকে নতুন ইঞ্জিন আনা হয়েছে। আগামী ২৫ জুলাই থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটে বে-ক্রুজের সার্ভিস পুনরায় চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে ১৯৯৫ সালে জাপানে তৈরি এ জাহাজটি পুনরায় এ রুটে চালু হবে কি না তা নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে যাত্রীদের মাঝে। বে-ক্রুজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানির লঞ্চগুলো যখন রোটেশন পদ্ধতিতে চলাচল করছে তখন বিআইডব্লিউটিসির জাহাজগুলো একে একে বিকল হচ্ছে। সংস্থার নৌবহরে থাকা ২২টি জাহাজের মধ্যে ৪টি প্যাডেল স্টিমার, ৭টি প্রপেলর জাহাজ ও ১১টি সি-ট্রাক। ঢাকা-বরিশাল ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ১১টি জাহাজের মধ্যে বেশিরভাগ বিকল হয়ে বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য পড়ে আছে। জাহাজ সংকটের কারণে খুলনা রুট আগেই গুটিয়ে গেছে। বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় দু’ বছর যাবত্ বন্ধ রয়েছে। এ রুটের এম ভি বার আউলিয়া, এম ভি আলাউদ্দিন, এম ভি মতিন ও এমভি রাঙ্গাবালী দীর্ঘদিন যাবত্ অচল হয়ে ডক ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে আব্দুল মতিন নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী ‘পিএস গাজী’ কয়েক বছর পূর্বে আগুনে পুড়ে যাত্রী পরিবহনের ক্ষমতা হারায়। শহীদ বেলায়েত নিলামে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বিক্রি করার অপেক্ষায় রয়েছে রেলওয়ে থেকে ক্রয় করা দেশের সর্ববৃহত্ ‘জলযান এমভি সোনারগাঁও’। এ জাহাজটি মেরামতের নামে অপচয় হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। একই ভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করেও লেপচাকে সচল রাখা যাচ্ছে না। পিএস শেলা, পিএস অস্ট্রীচ, পিএস টার্ন দিয়ে কোন রকম ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ঢাকা- বরিশাল রুটে সরকারি এ জাহাজের দুরবস্থাকে পুঁজি করে বেসরকারি লঞ্চ মালিকরা নামছেন যাত্রী জিম্মি করে রমরমা বাণিজ্যে। দূরপাল্লার এ রুটের মতই দক্ষিণাঞ্চলে ছোট রুটগুলোতে যেসব সি-ট্রাক চলাচল করছে তারমধ্যে ৪টি অধিকাংশ সময়ই বিকল হয়ে থাকে। ফলে ঈদের ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠার আশংকা করছেন যাত্রীরা।