বিএনপির নতুন ধারার সরকার

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
বিএনপি আগামীতে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারলে সম্পূর্ণ নতুন ধারার সরকার গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কেমন হবে এই নতুন ধারার সরকার? এই প্রশ্ন এখন যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনে, তেমনি দলীয় ফোরামে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরাও ভাবতে শুরু করেছেন। পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই চাঙ্গা বিএনপি এখন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিজয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। এমনি পরিস্থিতিতে আগামী সরকারের রূপরেখা প্রণয়নে উদ্যোগী হয়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকমহল। বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের একটি মহল জানিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা করা হবে, যদি তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। আরেকটি মহল অবশ্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে বলেছেন, একক রাষ্ট্র বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। তবে বিএনপি আগামী দিনের সরকারের রূপরেখায় প্রতিহিংসার রাজনীতি বর্জন করে বিরোধী দলের প্রতি সহনশীল ও নমনীয় মনোভাব প্রকাশের কথা ভাবছে। বিরোধী দলকে আস্থায় রেখে তাদের সংসদ বর্জন থেকে বিরত রাখা হবে। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হলে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা করবে। এছাড়া দেশব্যাপী মহাসড়ক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ, পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও বন্দরকে যুগোপযোগী করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙন রোধ, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ, জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু, কক্সবাজার ও কুয়াকাটার উন্নয়নসহ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, খনিজ সম্পদের উন্নয়ন ও আহরণের সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, মুদ্রাস্ফীতি সহনশীল পর্যায়ে রাখা এবং বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে কোন তত্পরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, এই শতাব্দী বাংলাদেশের জন্য অমিত সম্ভাবনাময়। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘোষিত নতুন ধারার সরকার সম্পর্কে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, বিএনপি আগামীতে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। বিরোধী দলের প্রতি সহনশীল ও নমনীয় মনোভাব পোষণ করা হবে এবং তারা যেন সংসদ বর্জন না করে সংসদে থাকেন তার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের মত পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। বিএনপি দ্বিদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করবে অর্থাত্ যে কোন জাতীয় ইস্যুতে যখনই প্রয়োজন বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সংকট সমাধানে প্রয়াসী হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সময় থেকে বিচার বিভাগের ওপর যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে তা বন্ধ করা হবে। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হবে এবং গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে কিন্তু গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠন করবে কারো কারো এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র এবং এখানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার কোন সুযোগ নেই। বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে এমন কোন উদ্যোগ নেবে না।