প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে ভারত গিয়ে পাঁচ বাংলাদেশি কিশোর গত পাঁচ মাস ধরে সেখানে বন্দী রয়েছে। গত ২ জুন ওই পাঁচ কিশোরের সাজার মেয়াদ শেষ হলে বিএসএফ তাদের ফেরত দিতে সীমান্তে নিয়ে আসে। কিন্তু এক কিশোরের গ্রামের নামে সামান্য ভুল হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই কিশোরের বড় ভাই ও পুলিশের সদস্যরা তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও বিজিবি বলছে, তারা ওই কিশোরের বিষয়টি আরো যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে তাদের ফেরত আনবে। বিষয়টি বিজিবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানালেও এতদিনে পাঁচ কিশোর ফিরতে পারেনি দেশে।
আটক কিশোররা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জগদল গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আক্তারুজ্জামান ছোটন (১৩), বরগুনা সদর থানার চালিতাতলী গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (১৪), ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার খামিনারবাগ গ্রামের উসমান শেখের ছেলে আকাশ হোসেন (১৪), বাগেরহাটের মংলা উপজেলার শায়েমাঠ গ্রামের জাকির শেখের ছেলে মাদরাসা ছাত্র মোস্তাকিম শেখ (১১) ও শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার আয়নাপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া (১২)। এই পাঁচ কিশোর রাজধানীর উত্তরার একই এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতো। এদের মধ্যে আক্তারুজ্জামান ছোটন উত্তরা পাবলিক হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। মূলত তার গ্রামের নামের গরমিলের কারণে বিজিবি ওই কিশোরদের গ্রহণ করেনি।
জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি তারা সবাই মিলে বন্ধু বাচ্চু মিয়ার বোনের বিয়ে উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার আয়নানগর গ্রামে আসে। বিয়েতে সবাই মিলে নাচগান করে। পরেরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি এক উপজাতি প্রতারক নাচ করার নামে মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের ভারতে নিয়ে যায়। এক সময় ওই প্রতারক কৌশলে তাদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে কেটে পড়ে। পরে তারা এক দোকানির কাছে জানতে চায় তারা এখন কি করবে। ওই দোকানি তাদের স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে তারা সহযোগিতা চাইলে ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে তাদের ঠাঁই হয় মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার অবজারভেশন হোমসে। গত মে মাসে ওই পাঁচ কিশোরের সাজার মেয়াদ শেষ হলে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ ২ জুন তাদেরকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্তের কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে আনে ফেরত দেয়ার জন্য। ওই পাঁচ কিশোরের আত্মীয়-স্বজন, বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশ যায় সীমান্তে। কিন্তু ছোটনের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে বাঁধে ঝামেলা। বিজিবির বারোমারী ক্যাম্পের কমান্ডার বলেন, তারা ছোটনের গ্রামের ঠিকানা ভালো করে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার আগে তাদের ফেরত নেবে না। এ সময় বাংলাদেশের পুলিশ ও কিশোরদের স্বজনেরা তাদেরকে ফেরত চাইলেও আর আনা হয়নি তাদের। তাদেরকে পুনরায় নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের অবজারভেশন হোমেস।
শেরপুর বিজিবি জানায়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। ওখান থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কিছু করতে পারছি না। ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা এএসআই রামপ্রসাদ জানান, আমরা যোগাযোগ করে ঠিকানা নিশ্চিত হয়েছি। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে ওদের ফেরত আনতে পারছি না। আশা করছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে আটক থাকায় ভেঙে পড়েছেন এসব কিশোরের স্বজনেরা।
