ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান পেটানোর অভিযোগে গোলাম মাওলা রনির সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন পরিবার। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি শাহেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক মোহিতুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
গোলাম মওলা রনির সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে শাহেদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর আমরা রনির অফিসে গিয়েছিলাম। তখন তিনি আমাদের কাছে মিথ্যা কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখেছি তিনি কিভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে অবাক হয়েছি, একজন সংসদ সদস্য কিভাবে এমন মিথ্যা কথা বলতে পারেন। এমন মিথ্যাবাদীকে আমরা সংসদে দেখতে চাই না।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার বুঝি না। আমরা আওয়ামী লীগ সরকার বুঝি না। আমরা ভবিষ্যত্ সরকার বুঝি না। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন করবে আমরা তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাবো। সাংবাদিকদের ওপর হামলার জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে গোলাম মাওলা রনিকে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে ডেইলি সানের সাবেক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা। অন্যান্য সরকারের মত এ সরকারের সময়ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাজা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতার চর্চা ব্যাহত হচ্ছে।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এম এম জসীম বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা করে রনি নিজেকে সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। এই ঘটনায় তার দ্রুত বিচার দাবি করছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে ছাত্রলীগের তালা ঝুলিয়ে দেয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রিপোর্টার ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
